তদন্ত প্রতিবেদক: সুরমার শান্ত সমীরণ আর শতবর্ষের বনেদি ঐতিহ্যের অহংকারে মোড়ানো সিলেট স্টেশন ক্লাব। কিন্তু আভিজাত্যের এই খোলসের ভেতরে যে এমন কদর্য রূপ লুকিয়ে আছে, তা হয়তো নগরবাসীর কল্পনাতীত ছিল। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও শালীনতার কৃত্রিম মুখোশ ছিঁড়ে মুহূর্তেই এই অভিজাত প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল উন্মত্ত এক ‘রেসলিং রিং’ বা রণক্ষেত্রে। তথাকথিত ‘এলিট ক্লাসের’ সদস্যদের চেয়ার ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি ও অকথ্য গালিগালাজের লজ্জাজনক দৃশ্য প্রমাণ করেছে— স্যুট-বুট আর মার্জিত আবহের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম বর্বরতা।
অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ক্লাবের ভেতরে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও আড্ডার আয়োজনের মধ্যেই আকস্মিক বিতণ্ডায় জড়ান কতিপয় প্রভাবশালী সদস্য। মুহূর্তের মধ্যেই সেই কথাকাটাকাটি রূপ নেয় শারীরিক সংঘর্ষ ও পেশিশক্তির নগ্ন মহড়ায়। যারা ড্রয়িংরুম আড্ডায় বা প্রশাসনিক সভায় সমাজ সংস্কারের বুলি আওড়ান, তারাই একে অপরের প্রতি হিংস্র ভঙ্গিতে চড়াও হন। কলার ধরা, ধস্তাধস্তি আর অশালীন হুংকারে ক্লাবের সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম ও লাউঞ্জ চত্বর পরিণত হয় কুরুক্ষেত্রে।
সংঘাত এতোটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, এক সদস্যকে বারে ও ডাইনিং জোনে থাকা ভারী কাঠের চেয়ার উঁচিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় চরম উত্তেজনার মাঝে একজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “মাহবুব ভাই, খালেক ভাই, ইউ আর দ্য উইটনেস!” সংঘাত থামাতে উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠ ও সাধারণ সদস্যরা এগিয়ে এলেও উত্তেজনার পারদ কমানো যায়নি। উল্টো, চরম হট্টগোলের এই ন্যক্কারজনক দৃশ্য কেউ মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে, অপরাধ ঢাকতে তীব্র ক্ষোভে ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে থাকে অপর পক্ষ।
বাজেট সভা ও সুশীল আড্ডায় যারা আভিজাত্যের প্রতীক বনে যান, তাদের এমন পাড়ামহল্লার মাস্তানসুলভ আচরণে খোদ ক্লাব মহলেই তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষ। সাধারণ সদস্য ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত।
শতবর্ষী ঐতিহ্যের গায়ে কলঙ্কের যে গভীর কালো দাগ এরা মেখে দিয়েছেন, তা সিলেট স্টেশন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতি-নৈতিকতাকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। আভিজাত্যের আবরণে এই নগ্ন বর্বরতা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির মর্যাদাকে শুধু ধূলিসাৎই করেনি, বরং অবিলম্বে দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবিও তুলে ধরেছে।