নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে বড়সড় ধাক্কা খেলো চোরাকারবারি চক্র। রাতের আঁধার চিরে অবৈধ পণ্য পাচারের সময় ২০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় কম্বলসহ এক পেশাদার পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। এসময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি বিশাল কাভার্ডভ্যানও জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, অদ্য বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত তখন ৪টা বেজে ৫ মিনিট। চারদিকের সুনসান নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালানের বড় একটি চালান পার করার ছক কষেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু শাহপরাণ থানা পুলিশের কড়া নজরদারির কাছে ধোপে টেকেনি তাদের চতুরতা। এসআই (নিঃ) মাইনুল রেজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে পাকা রাস্তায় দুর্ভেদ্য চেকপোস্ট বসায়।
এ সময় ‘ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৮৬১০’ নম্বরের একটি সন্দেহভাজন কাভার্ডভ্যানকে সিগন্যাল দিয়ে থামায় পুলিশ। গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন রং ও সাইজের ৬৭২ পিস ডাবল পার্টের অবৈধ ভারতীয় কম্বল। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
এই মেগা চোরাচালান চক্রের সদস্য হিসেবে কাভার্ডভ্যান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় গোপালগঞ্জ সদরের মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের লুৎফুর রহমান মোল্লার ছেলে আসিব মোল্লাকে (৩৫)।
চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার এই হীন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসিব মোল্লাকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর, ২০২৬) শাহপরাণ (রহঃ) থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি(১)(খ)/২৫-ডি ধারায় একটি মামলা (নং-০৯) রুজু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কড়া পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের বিষয়টি ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর কাছে নিশ্চিত করেছেন শাহপরাণ (রহঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমেদ।
চোরাকারবারিদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “চোরাচালান ও অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা কোনো পণ্য এই থানা এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। অপরাধী চক্রের শেকড় যত গভীরেই হোক না কেন, তাদের সমূলে উৎপাটন করা হবে।”
শাহপরাণ পুলিশের এই সফল অভিযান এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।