সরকারি সম্পদ যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি! | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন

সরকারি সম্পদ যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি!

সরকারি সম্পদ যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি!

Manual2 Ad Code

তদন্ত প্রতিবেদক: সরকারি বিধিমালাকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপ্তরিক গাড়িকে ‘পারিবারিক ট্যাক্সি’তে পরিণত করেছেন সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ। বিনা ছুটিতে অন্য জেলায় বসবাস, সন্তানকে কোচিংয়ে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে পর্যটন কেন্দ্রে সপরিবারে প্রমোদভ্রমণ সবই চলছে সরকারি টাকায়, সরকারি গাড়িতে! উপপরিচালক (ডিডি) নিবাস রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি যথেচ্ছভাবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

Manual5 Ad Code

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুনামগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ছুটি ছাড়াই সিলেটে সপরিবারে বসবাস করছেন। সপ্তাহের বেশিরভাগ কর্মদিবসেই তিনি দাপ্তরিক কাজের তোয়াক্কা না করে সরকারি গাড়ি হাঁকিয়ে সিলেটে পাড়ি জমান। শুরুতে এই গাড়িটি তিনি সিলেটের ‘প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন’-এর গ্যারেজে লুকিয়ে রাখলেও, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তড়িঘড়ি করে পার্কিংয়ের স্থান পরিবর্তন করে ফেলেন এই কর্মকর্তা।

Manual7 Ad Code

পারিবারিক পরিবহনে সরকারি গাড়িতেই নিয়মিত সন্তানকে কোচিংয়ে আনা-নেওয়া। প্রমোদভ্রমণে দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহার করে জাফলং ও শ্রীমঙ্গলের মতো পর্যটন কেন্দ্রে সপরিবারে ভ্রমণ। দায়িত্বে অবহেলায় ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে দিনের পর দিন অনুপস্থিতি। তাঁর এই বেপরোয়া আচরণের সর্বশেষ প্রমাণ মেলে চলতি সপ্তাহেই। গত রবিবার নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শেষে তিনি সরকারি গাড়িতে সিলেটে চলে যান এবং পরদিন সোমবার কোনো দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। পুরো দিন সিলেটে সরকারি গাড়িতে ব্যক্তিগত কাজ সেরে, মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জের একটি সরকারি সভায় যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে ফিরে আসেন তিনি। রাষ্ট্রের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতের বিপুল পরিমাণ অর্থের শ্রাদ্ধ করে চললেও তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস। দম্ভের সাথে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নন এবং তিনি যা করেন তা সিলেটের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জানিয়েই করেন।

অথচ তার এই মিথ্যাচার ও দাম্ভিকতাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং এমনটা হলে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রের অর্থের এমন অপচয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা রুখতে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
error: Content is protected !!