সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ৫ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বাবুল, অস্ত্র উদ্ধার! | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ৫ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বাবুল, অস্ত্র উদ্ধার!

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ৫ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বাবুল, অস্ত্র উদ্ধার!

Manual4 Ad Code

নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেট মহানগরীর রায়নগরে নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতায় এসেছে বড় সাফল্য। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মাত্র ৫ ঘণ্টার মাথায় সন্দেহভাজন ঘাতক বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে গ্রেফতারকৃতের দেয়া তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

​নিহতরা হলেন, রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার ‘মিতালী-১১১’ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

Manual2 Ad Code

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে রায়নগরের উক্ত বাসভবন থেকে হঠাৎ আর্তচিৎকার শোনা যায়। প্রাথমিকভাবে অসুস্থজনিত কোনো ঘটনা ভেবে প্রতিবেশীরা এগিয়ে না গেলেও সকাল ১০টার দিকে রক্ত হিম করা বাস্তবতা সামনে আসে। ঐ বাসায় রঙের কাজের জন্য আসা এক মিস্ত্রি ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া পাননি। পরবর্তীতে পাশের ভবনের এক ভাড়াটিয়া আব্দুস সাত্তারের বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে বারান্দায় আসতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হন এবং কোতোয়ালী মডেল থানায় খবর দেন।

Manual6 Ad Code

​খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসার প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তল্লাশিতে একটি কক্ষে মো. আব্দুস সাত্তার এবং অন্য একটি কক্ষে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতকরা বাড়ির পেছনের ও দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়, যেখানে দোতলা থেকে নিচে নামার সিঁড়িতে তাজা রক্তের দাগ পরিলক্ষিত হয়েছে। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

​হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নিঃ শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ী রায়নগরের আক্তার মিয়ার কলোনী থেকে মূল সন্দেহভাজন বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। আটক বাবুল মৃত নূর মিয়া ওরফে নূর কবিরাজ ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে।

​গ্রেফতারের পরপরই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে বাবুলের দেয়া জবানবন্দী অনুযায়ী ‘মিতালী-১১১’ বাসার অদূরে একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, “আটক বাবুলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।” নৃশংস এই ত্রিভুজ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও নেপথ্য কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
error: Content is protected !!