বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের হরিপুর এলাকায় অবস্থিত টিএমএসএস (TMSS) ব্যাংকের একটি শাখাকে ‘অনৈতিকতার আখড়ায়’ পরিণত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। ব্যাংকিং নীতিমালার তোয়াক্কা না করে গভীর রাতে নারী সহকর্মীদের নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করার ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নস্থ শুক্রবারি বাজার স্কুলের পাশে অবস্থিত টিএমএসএস ব্যাংকের হরিপুর শাখার বর্তমান ম্যানেজার রবিউল ইসলামের মূল বাড়ি রাজশাহীতে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রতিদিন রাত ১১টার দিকে মাঠ সুপারভাইজার মাবিয়া এবং অ্যাকাউন্টিং শাখার কর্মী রিপা নামের দুই নারী সহকর্মী ওই শাখায় প্রবেশ করেন। এরপর ম্যানেজার রবিউল ভেতর থেকে অফিসের দরজা-জানালা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন এবং রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। নিয়মানুযায়ী বিকাল ৪-৫টার মধ্যে ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, রাতের আঁধারে বন্ধ দরজার পেছনে কীসের দাপ্তরিক কাজ চলে তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাংকের ভেতরে এমন সন্দেহজনক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় ইকবাল নামের এক যুবকের নজরে এলে তিনি প্রাথমিকভাবে ম্যানেজার রবিউল ইসলামের কাছে এর কারণ জানতে চান। কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার বা সদুত্তর দেওয়ার বদলে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন রবিউল। উল্টো ওই যুবককে হুমকি দিয়ে তিনি দম্ভভরে বলেন, সিলেটের মানুষ আমার বা একটা ছিঁড়তে পারবে না। আমি রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত মেয়ে নিয়ে ঘুরব, অফিস করব কার কী করার আছে!
ম্যানেজারের এমন কুরুচিপূর্ণ, অপেশাদার ও দাম্ভিক বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সতর্কতামূলক স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের নজরে আনেন।
তিনি তার পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যাংক আছে যা রাত ১টা-২টা পর্যন্ত খোলা থাকে? রাতে মেয়ে মানুষ নিয়ে মানুষের বাসায় যাওয়া এবং ব্যাংকের ভেতরে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের এলাকার মানসম্মান নষ্ট করছে।” তিনি অনতিবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তথাকথিত এই ব্যাংকটি বয়কটের আহ্বান জানান।
এদিকে, এলাকাবাসীর এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিএমএসএস ব্যাংক হরিপুর শাখার অভিযুক্ত ম্যানেজার রবিউল ইসলামের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা বারবার কেটে দেন। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি তা দেখেও কোনো সাড়া দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ব্যক্তিগত ফুর্তি ও অনৈতিক কাজের আখড়ায় পরিণত করার দায়ে অভিযুক্ত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে টিএমএসএস ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।