নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজুর রহমানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও সাঁড়াশি অভিযানে এলাকা যখন মাদক, ছিনতাই ও প্রথাগত জুয়া থেকে অনেকটাই মুক্ত হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, ঠিক তখনই এক অভিনব ডিজিটাল জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মাঝেই ‘লাকসামি ফারুক’ নামক এক হোতার নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমায় অবাধে চলছে সর্বনাশা অনলাইন ‘তির’ ও ফোরডি (4D) জুয়ার রমরমা বাণিজ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা রেল কলোনি মার্কাজ পয়েন্ট এবং কুখ্যাত জুয়াড়ি আখল মিয়ার বাসাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক। এই পুরো জুয়া সিন্ডিকেটের নেপথ্যের কারিগর লাকসামি ফারুকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে ডিজিটাল জুয়ার এই মহোৎসব। রেল কলোনি মার্কাজ পয়েন্ট এলাকায় ফারুকের বিশ্বস্ত এজেন্টরা রীতিমতো ফাঁদ পেতে বসে থাকে। তাদের টার্গেট মূলত রিকশাচালক, দিনমজুর, তরুণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, জুয়ার নিরাপদ আস্তানা এবং আর্থিক লেনদেনের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আখল মিয়ার বাসা। প্রশাসনের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইল অ্যাপস এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ)-এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, এই সর্বনাশা অনলাইন জুয়ার কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। জুয়ার টাকার জোগান দিতে গিয়ে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণেরা চুরি, ছিনতাইসহ নানাবিধ ভয়ংকর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে লাকসামি ফারুক ও তার চক্রের দৌরাত্ম্য এতোটাই বেশি যে, তাদের এই প্রকাশ্য ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
অথচ, দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ি এলাকার সার্বিক চিত্র বর্তমানে প্রশংসনীয়। ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে একের পর এক মাদক কারবারি ও সক্রিয় ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা পাচ্ছে। প্রথাগত জুয়াড়িদের আড্ডাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমন কঠোর ও আপসহীন পুলিশি প্রহরার মধ্যেও লাকসামি ফারুকের ডিজিটাল জুয়ার সিন্ডিকেট কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দিনের পর দিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে, তা সচেতন মহলে বিরাট প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি, পুলিশের এই সফল অভিযান যেন শুধুমাত্র প্রথাগত অপরাধীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দক্ষিণ সুরমা রেল কলোনি ও মার্কাজ পয়েন্ট এলাকাকে এই ডিজিটাল জুয়ার বিষবাষ্প থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে এবং লাকসামি ফারুকসহ এই সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্যকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।