মোঃ রায়হান হোসেন: রক্ষক যখন ভক্ষক, তখন অপরাধীদের সাথে প্রশাসনের গোপন আঁতাতের চিত্র আর ধামাচাপা থাকে না। এবার লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সজল কানুর বিরুদ্ধে মাসিক মাসোহারা নিয়েও এক চোরাকারবারির মালামাল আটকে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
ফাঁস হওয়া ১৪/১৫ টি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে এসেছে সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকটে। এরমধ্যে একটি অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, জয়নাল নামের এক চোরাকারবারি ফাঁড়িরই আরেক পুলিশ সদস্যের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোদ আইসিকে বদলি করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন।
গত আগস্ট মাসে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সজল কানুর দাবি তার নেতৃত্ব একটি চোরাচালানের মালামাল আটক করা হয়। তবে এই আইনি পদক্ষেপের আড়ালে বেরিয়ে এসেছে পুলিশ ও অপরাধীদের গোপন চুক্তির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডে শোনা যায়, জয়নাল নামের ওই চোরাকারবারি ফাঁড়িরই অপর এক পুলিশ সদস্যের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
জয়নালের অভিযোগ, আইসি সজল কানু তার কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা নিতেন। টাকা নেওয়ার পরও চুক্তি ভঙ্গ করে মালামাল আটক করে তার ব্যবসায়িক ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই চোরাকারবারি।
অডিও কথোপকথনে ওই পুলিশ সদস্য জানান, আটকের পর মালামালগুলো ডিআইজির এক আত্মীয়ের বলে ছাড়ারও চেষ্টা করেন আইসি। জানা যায় এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি ডিআইজি বরাবর অভিযোগও দায়ের করেছেন। সিজারলিস্ট তৈরি করে কয়েকজনের স্বাক্ষর নেওয়ার কথাও উঠে আসে এই আলোচনায়। অন্যদিকে ক্ষিপ্ত জয়নাল জানান, এই ঘটনায় দুজনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। আইনি মোকাবেলার জন্য হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি ফুটে ওঠে জয়নালের দম্ভোক্তির মাধ্যমে। তিনি ওই পুলিশ সদস্যকে বলেন, “আপনার চুল পরিমাণ ক্ষতি হবে না, তাকে (আইসি) আমি বদলি করতেছি ১০০০%”। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এলাকার অন্যান্য চোরাকারবারিদের লঞ্চের মালামাল ধরিয়ে দিতে তিনি নিজেই পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার কথা জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে একজন চিহ্নিত চোরাকারবারির এমন প্রকাশ্য আঁতাত এবং বদলির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের হুমকি লালপুর নৌ পুলিশের সার্বিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ধারাবাহিক পর্ব নং- ০৮।