তদন্ত প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগ, সিলেট মহানগর শাখার নবগঠিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে ঢাকার রাজপথের আলোচিত ছাত্রনেতা মো. সারোয়ার আহমেদ ফাহিমকে। একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য পদবণ্টন ও তৎপরতা একদিকে যেমন আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
গত ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ উল্লেখ থাকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত ওই নথিতে মো. নাঈম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ জনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকার ৯ নম্বরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে ঢাকার পরিচিত মুখ মো. সারোয়ার আহমেদ ফাহিমের নাম। ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় একজনকে সিলেটের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছে, তেমনি নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা পলাতক থাকা অবস্থায় কীভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং সরকার পতনের পর থেকে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা দেশছাড়া। তবে ফাহিমের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় একের পর এক মিছিল ও সমাবেশে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো পুলিশের চরম নির্লিপ্ততা। একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হয়ে উসকানিমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চালিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তিনি অজ্ঞাত কারণে ‘অদৃশ্য’ বা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন আস্ফালন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফাহিমের মতো নেতারা কাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং কেন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।