কার ইশারায় একলিম? | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

কার ইশারায় একলিম?

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে (সিসিক) কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দানা বেঁধেছে নানামুখী বিতর্ক ও তুমুল সমালোচনা। বর্তমানে সমগ্র নগরজুড়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও সমালোচিত নাম সিসিকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ একলিম। তার চাকরিকালীন ও পরবর্তী কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ওঠা নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ এবং সে বিষয়ে প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এখন সিসিকপাড়ার প্রধান ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে।

Manual2 Ad Code

সচেতন মহলের একাংশের দাবি, উক্ত কর্মকর্তা এক প্রভাবশালী মহলের আশকারা ও আশীর্বাদপুষ্ট। অন্য অংশের মতে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের অভ্যন্তরেই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অসাধু বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অথচ একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ভূমিকা ও রহস্যজনক নিস্পৃহতা সমগ্র বিষয়টিকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক করে তুলছে।

Manual3 Ad Code

বর্তমানে নগরবাসীর মনে একটি মৌলিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন বারবার উদিত হচ্ছে যদি তার চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়ে থাকে, তবে এখনো তিনি কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে এবং কার স্বার্থে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন? সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, যদি উত্থাপিত অভিযোগগুলো অসত্য বা ভিত্তিহীনও হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অদ্যাবধি কোনো স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কেন প্রদান করা হচ্ছে না, তা এক বিরাট রহস্যের জন্ম দেয়।

বলা বাহুল্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণরূপে জনগণের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর খেয়ালখুশি কিংবা নিয়ন্ত্রণে থাকার জায়গা নয়। জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের তীব্র দাবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ, জনবান্ধব এই প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বিনষ্ট হলে তার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয় সমগ্র নগরব্যবস্থাকে।

আজ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ কোনো প্রকার ধোঁয়াশা, ধূর্ততা কিংবা সংঘাত নয়, বরং সরাসরি সত্য ও স্বচ্ছতা অবলোকন করতে চায়। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অবিলম্বেই জরুরি বলে মনে করেন নগরবাসী। একই সাথে, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিকরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত অনৈতিক প্রভাব যেন কোনো অবস্থাতেই কারও রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ না করে। সিলেটের মানুষ আর কোনো অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত থাকতে রাজি নয়, তারা চায় সচ্ছল ও পরিষ্কার জবাব।

Manual5 Ad Code

বিদ্যমান এই অস্থিতিশীল ও ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক জনাব কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে এখন পুরো নগরবাসীর জোরালো জিজ্ঞাসা সিসিকের এই পুঞ্জীভূত ধোঁয়াশা দূর করে কবে নাগাদ কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা হবে? জনতা এখন তাঁর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code