তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়িত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সংস্কারের মাত্র দুই মাসের মাথাতেই নবনির্মিত সড়কগুলোর পিচঢালাই বা কার্পেটিং উঠে গিয়ে চরম বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এই লাগামহীন দুর্নীতির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং সরকারি অর্থের যথেচ্ছ অপচয়ের দায়ে অবিলম্বে তাঁকে প্রত্যাহারের দাবিতে গোটা উপজেলাজুড়ে এখন তুমুল আলোড়ন চলছে।
সম্প্রতি ‘গোয়াইনঘাট-হাকুরবাজার-ফতেহপুর’ সড়কের দুর্দশাগ্রস্ত ও ভয়াবহ চিত্র অনুসন্ধানে উঠে এলে এই দুর্নীতির বিষয়টি সর্বসমক্ষে উন্মোচিত হয়। তবে এই একটি মাত্র সড়কই নয়, উপজেলার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রই এখন চরম শোচনীয়। যেসব সড়কে দুর্নীতির চিত্র সর্বাধিক দৃশ্যমান এগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য, গোয়াইনঘাট-পিরিজপুর-সোনারহাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-বঙ্গবীর-হাদারপার সড়ক, গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়ক, জাফলং-কান্দুবস্তি সড়ক, গোয়াইনঘাট-সাতাইন-কুওরবাজার সড়ক।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অশুভ আঁতাত গড়ে তুলেছেন উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ। তাঁর প্রত্যক্ষ মদদ ও সার্বিক নির্দেশনায় গোটা গোয়াইনঘাটের সড়কগুলোকে রীতিমতো দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলোর স্থায়িত্ব দুই মাসও না টেকায় সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পূর্ণ জলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সীমাহীন লুটপাটের বিরুদ্ধে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই অপচয় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সীমান্ত জনপদের এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী হাসিব আহমেদকে অনতিবিলম্বে গোয়াইনঘাট থেকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় আনা এবং এই হরিলুটের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গোয়াইনঘাটের সাধারণ মানুষ।
Leave a Reply