বিশেষ প্রতিবেদক: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দাখিল করে ফেঁসে গেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালিকুর রহমান। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখার উপপরিচালক মোঃ আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠির (স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.৩০০.২৭.০৭৪.২০১৮.১৯৭) মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠির তথ্যানুযায়ী, প্রধান শিক্ষক সালিকুর রহমান গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশফাকুল আলমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব অভিযোগের সপক্ষে তিনি কোনো উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণই উপস্থাপন করতে পারেননি।
তদন্ত চলাকালে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট সাক্ষ্য প্রদানকালে তদন্তে আসা অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ প্রধান শিক্ষক সালিকুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান যে, প্রধান শিক্ষকের এমন মিথ্যা অভিযোগের কারণে গোটা উপজেলার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সপক্ষে কেউ সাক্ষ্য প্রদান করেননি।
প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে প্রধান শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।
এমতাবস্থায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দাখিলের দায়ে প্রধান শিক্ষক সালিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশাদকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিটির অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সদয় অবগতির জন্যও প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply