বিশেষ প্রতিবেদক: ক্ষমতার মোহ এবং চেয়ারের প্রতি লোভ যেন কিছুতেই কাটছে না! বদলির সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও সিলেটের গোয়াইনঘাট থানা ছাড়তে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তার এই চেয়ার আঁকড়ে থাকার বেপরোয়া ও নির্লজ্জ চেষ্টার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। টালবাহানার পথ চিরতরে বন্ধ করতে বদলি আদেশের চিঠিতেই সরাসরি জুড়ে দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বা তাৎক্ষণিক অবমুক্তির মতো চরমপত্র।
গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা থেকে অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ৪৪.০১.০০০০.০১২.১৯.০১০.২৬-১১৪৭) এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, সিলেট জেলায় কর্মরত ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে (বিপি-৭৮০৬১০২২০২) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলি করা হয়েছে। তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নিমিত্তে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল (গোয়াইনঘাট থানা) থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।
আদেশে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণে ব্যর্থ হলে বা টালবাহানা করলে, পরদিন অর্থাৎ ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (Stand Release) বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হয়েছেন মর্মে গণ্য করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি চাকরিতে বদলি একটি নৈমিত্তিক এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ওসি মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরকে কেন এমন ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’-এর মতো কড়া শর্ত জুড়ে দিতে হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, বদলির আদেশ আসার পরও তিনি গোয়াইনঘাট থানার লোভনীয় পদটি কোনোভাবেই ছাড়তে নারাজ। যেকোনো মূল্যে এই থানায় নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ আঁকড়ে থাকার নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
তার এই অপতৎপরতা ও অনৈতিক অনীহার বিষয়টি সদর দপ্তরের নজরে আসার পরই প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। একটি নিয়মিত বদলির আদেশে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’-এর মতো চরমপত্র যুক্ত থাকাটা প্রমাণ করে যে, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং আদেশ অমান্য করার প্রবল সম্ভাবনা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল পুলিশ সদর দপ্তর।
এখন দেখার বিষয়, সদর দপ্তরের এই চপেটাঘাতমূলক চরমপত্রের পর ওসি মনিরুজ্জামান কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মানজনকভাবে ছাড়পত্র গ্রহণ করবেন, নাকি নিজের একগুঁয়েমি বজায় রেখে ২ জুলাই থেকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’-এর মতো চূড়ান্ত অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হবেন।
Leave a Reply