নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের শাহজালাল রহমতুল্লাহ আলাইহির মাজারের পবিত্রতা নষ্ট এবং চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তোলার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলাম নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সে শহরতলির বদীকোনা এলাকার মনোহর আলীর ছেলে।
উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম মাজারের দান করা পবিত্র কোরআন শরীফ ও কবুতর চুরি করে বাজারে বিক্রি করে আসছে। এছাড়াও মাজারের ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখল করে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে সে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাজারে আগত ভক্তদের দান করা পবিত্র কোরআন শরীফ ও কবুতর চুরি করার আড়ালে সে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, এই চুরির টাকার নিয়মিত হিসাব সে ‘শামুন মাহমুদ খান’ নামক এক ব্যক্তির কাছে বুঝিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে, নুরুল ইসলাম শামুন মাহমুদ খানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে কাজ করে। এই প্রভাব খাঁটিয়ে সে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছে।
শুধু চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় নুরুল ইসলামের অপকর্ম। বদীকোনা এলাকায় মাজারের নামে ওয়াকফ করা পবিত্র ভূমিও অবৈধভাবে দখল করে সেখানে নিজের বাড়ি নির্মাণ করেছে সে। শামুন মাহমুদ খানের পিএস পদের প্রভাব খাটিয়ে মাত্র কয়েক বছরেই শূন্য থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে এই নুরুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, নুরুলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সাধারণ। তার আরেক ভাই বর্তমানে ঝর্ণার পাড় এলাকায় জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ভাইয়ের এমন সততার বিপরীতে নুরুল ইসলাম বেছে নিয়েছে চুরি ও দখলের অন্ধকার পথ।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে, সে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে এড়িয়ে যায় এবং বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পবিত্র কোরআন শরীফ ও মাজারের সম্পদ চুরির এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মাজারের ওয়াকফ জমি উদ্ধার এবং এই চুরির সিন্ডিকেটের মূল হোতা শামুন মাহমুদ খান ও তার পিএস নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply