সিসিকের কর্মচারী ও কর্মকর্তা সবাই যেনও আলাদিনের চেরাগের মালিক! | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

সিসিকের কর্মচারী ও কর্মকর্তা সবাই যেনও আলাদিনের চেরাগের মালিক!

সিসিকের কর্মচারী ও কর্মকর্তা সবাই যেনও আলাদিনের চেরাগের মালিক!

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) জেঁকে বসেছে দুর্নীতির এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অনেকেই সরকারি বেতনের চেয়ে কয়েক শ গুণ বেশি অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। নামসর্বস্ব পদে থেকেও অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে, প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও চরম স্বেচ্ছাচারিতা সিসিকের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Manual7 Ad Code

সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার নিজেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিলেট এয়ারপোর্ট রোডে স্ত্রীসহ মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক হলেও, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণে সচেতন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে ফেললেও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

Manual1 Ad Code

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন মন্ত্রণালয়ের কোনো বৈধ নিয়োগপত্র ছাড়াই সরকারি বেতন-ভাতা ও গাড়ি চালকসহ সব সুবিধা ভোগ করছেন। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল চুরি, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং ভুয়া মাস্টাররোলে শ্রমিকদের মজুরি উত্তোলনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার মামলার এজহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বপদে বহাল থাকা নিয়ে নগরজুড়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদিও স্থানীয় সরকার বিভাগ তাঁকে শোকজ করেছে, তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে ধীরগতিতে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সিসিকের সাধারণ কর্মচারীদের অঢেল সম্পদের ফিরিস্তি। ড্রাইভার ‘পিচ্চি বাবুল’ ও ‘আলমগীর’ সরকারি তেল ও গাড়ি ব্যবহার করে মাটি ব্যবসায় জড়িত হয়ে নগরে গড়েছেন একাধিক বহুতল ভবন। এছাড়া বর্জ্য সুপারভাইজার ফারুক আহমেদ, প্রধান অ্যাসেসর আব্দুল বাছিত এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনাফের বিরুদ্ধে আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে। তাদের অনেকেরই নামে রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা।

সিসিকের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, কোনো দুর্নীতিবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সচেতন নগরবাসীর প্রশ্ন? কেবল হুঁশিয়ারি নয়, বরং প্রকৃত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে কবে নাগাদ এই সিন্ডিকেটকে ভাঙা হবে এবং ট্যাক্সের টাকার লুটপাট বন্ধ হবে।

Manual4 Ad Code

সিলেটের নাগরিক সমাজ মনে করছে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের রক্ষাকবচ না হয়। সিসিকের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে অতি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code