নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর: তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ‘গাটের চটি (যাত্রাপুর)’ এলাকায় চলছে বিদ্যুৎ বিভাগের সীমাহীন খামখেয়ালি ও দুর্নীতির এক নগ্ন উৎসব। দীর্ঘ তিন মাস ধরে এলাকার একটি প্রধান বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মার সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ উঠেছে ঘুষের টাকা না পাওয়ায় অন্ধকারে ফেলে রাখা হয়েছে শত শত হতদরিদ্র মানুষকে, আর টাকার বিনিময়ে অন্য জায়গায় রাতারাতি বসে যাচ্ছে নতুন ট্রান্সফর্মার!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রান্সফর্মারটি নষ্ট হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন গাটের চটি এলাকার সাধারণ মানুষ। এই অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আরই (RE) মহোদয়কে বারবার অবহিত করা হলেও, তিনি সাধারণ মানুষের এই আর্তনাদকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেননি। জনগণের সেবক হয়েও দায়িত্বশীলদের চরম খামখেয়ালি ও অবহেলার এই চরম দাম্ভিকতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, গাটের চটি ব্লকের দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জনাব সুলতানের ভূমিকা যেন আরও প্রহসনমূলক। গত তিন মাস ধরে তিনি কেবল ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে মিথ্যা আশ্বাসের মূলা ঝুলিয়ে রেখেছেন। বাস্তবে ট্রান্সফরমার মেরামতের বা প্রতিস্থাপনের ন্যূনতম কোনো কার্যকরী উদ্যোগই তিনি গ্রহণ করেননি।
দিনের পর দিন এই টালবাহানার পেছনের আসল রহস্য এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সুস্পষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্ভোগকে পুঁজি করে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে ঘুষ বা বাড়তি টাকার লেনদেন হচ্ছে, সেখানে জাদুর মতো খুব দ্রুত ট্রান্সফর্মার বসানো বা মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে যার অসংখ্য অকাট্য প্রমাণ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর হাতে এসেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন টাকা না দিলে কি এই গরমে অবহেলিত হতদরিদ্র মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই? সরকারি সেবা কি কেবলই টাকাওয়ালাদের জন্য?
মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অমানবিক ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে চিফ ইঞ্জিনিয়ার জনাব সুলতান এবং আরই মহোদয়কে তাদের এই চরম দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির জন্য সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দ্ব্যর্থহীন দাবি অতি দ্রুত এই বিচ্ছিন্নকৃত ট্রান্সফরমারটি সংযোগ দিয়ে গাটের চটি এলাকার হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে স্থানীয় জনতা।
Leave a Reply