গোয়াইনঘাটে নামজারির নামে হরিলুট! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে নামজারির নামে হরিলুট!

গোয়াইনঘাটে নামজারির নামে হরিলুট!

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা (ভূমি) অফিসে নামজারির (জমা-খারিজ) নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নামজারী সহকারী অসিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে। টাকা ছাড়া যেন তার টেবিলে কোনো ফাইলই নড়ে না! ‘ঘুষের রাজত্ব’ কায়েম করা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বিস্তর অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Manual6 Ad Code

​প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার নিয়াগুল গ্রামের বাসিন্দা মো: দেলোয়ার হোসেন চরম হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দেলোয়ার হোসেন নিজের খরিদা ০২ শতক বাড়ী রকম ভূমি এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের (মামা আব্দুস সালাম, চাচা শ্বশুড় জয়নাল আবেদীন এবং মামাতো ভাই মুনজুর আলম) নামে মোট ৪টি নামজারির আবেদন করেন। যার মামলা নং- ৪৬/২০২৪-২৫, ৫২৮/২০২৪-২৫, ৫৭৮/২০২৪-২৫ ও ৪৪৩৪/২০২৩-২৪।

​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবেদনগুলো অনুমোদনের জন্য মূল দলিলসহ গোয়াইনঘাট ভূমি অফিসের নামজারী সহকারী অসিম চন্দ্র দেলোয়ারের কাছ থেকে প্রথম দফায় ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ‘বাড়ী’ রকম ভূমি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তিনি খরচের কথা বলে আরও ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে ওই ২০ হাজার টাকাও প্রদান করেন।

​মোট ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও কাজ করে দেননি অসিম চন্দ্র। উল্টো দলিলে ভুল থাকার মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে তিনি আরও ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী দেলোয়ার এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অসিম চন্দ্র ক্ষিপ্ত হয়ে তার নামজারির আবেদনগুলো বাতিল করে দেন। টাকা না দেওয়ার কারণেই ফাইল বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি ভুক্তভোগীর মুখের ওপর দম্ভোক্তি করেন।

​পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার দেওয়া টাকা ও মূল দলিলপত্র ফেরত চাইলে অসিম চন্দ্র তাকে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকেন। গত ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখে টাকা ও দলিল ফেরত দেওয়ার কথা বলে দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিসের বারান্দায় বসিয়ে রেখে পরে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

​বিষয়টি এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) মহোদয়কে জানানোর কথা বললে অসিম চন্দ্র তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে এসিল্যান্ডকে জানালে তিনি উল্টো এসিল্যান্ডকে দিয়েই ভুক্তভোগীকে অফিসের সীমানায় ঢুকতে দেবেন না এবং বিভিন্ন মিথ্যা কার্যকলাপে জড়িয়ে হয়রানি করবেন।

Manual3 Ad Code

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত অসিম চন্দ্রের সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক বলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

​কে এই দুর্নীতিবাজ অসিম বাবু? তার খুঁটির জোর কোথায়? একজন সাধারণ কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রকাশ্য হুমকিতে পুরো এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ ও অসহায়। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তার টাকা ও মূল কাগজপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কবল থেকে রক্ষা পেতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

​গোয়াইনঘাটের ভুক্তভোগী জনসাধারণের এখন একটাই দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন অবিলম্বে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে এই দুর্নীতিবাজ নামজারী সহকারী অসিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ভূমি অফিসকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code
error: Content is protected !!