​সিএমএসডিতে ডা. তৌহিদের দুর্নীতি! | তদন্ত রিপোর্ট

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
​সিএমএসডিতে ডা. তৌহিদের দুর্নীতি!

​সিএমএসডিতে ডা. তৌহিদের দুর্নীতি!

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বাস্থ্য খাতের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) বর্তমানে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অরাজকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক ডা. তৌহিদ আহমদের (কোড: ১০৯৬৩০) বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিবহির্ভূত ক্রয় প্রক্রিয়া এবং চরম পেশাগত অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

Manual4 Ad Code

প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও পদায়ন:
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ডা. তৌহিদ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সিএমএসডিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সহকারী পরিচালক থেকে সরাসরি উপ-পরিচালক পদে তার পদায়ন নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন।

Manual8 Ad Code

ক্রয় প্রক্রিয়ায় হরিলুট:
করোনা মহামারিকালীন জরুরি সুরক্ষা সামগ্রী (এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিবির ইনজেকশন ইত্যাদি) ক্রয়ে স্বচ্ছতার তোয়াক্কা না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে সামগ্রী সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তদারকির অভাবে ১২ লাখ পিপিইসহ কোটি কোটি টাকার সুরক্ষা সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এমনকি বিপুল পরিমাণ মালামাল ‘ওয়েস্টেজ’ হিসেবে পানির দরে বিক্রি ও পুড়িয়ে ধ্বংস করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

বিলাসবহুল জীবন ও পেশাগত বিচ্যুতি:
প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও সরকারি অর্থায়নে জাপান ও জার্মানি ভ্রমণ এবং বিভিন্ন কমিটির সদস্য হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অপারেশন প্ল্যান ও উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং ফরিদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের অজুহাতে নিয়মিত বিমান ভ্রমণের ব্যয়ভার সরকারিভাবে মেটানোর মতো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

Manual2 Ad Code

অফিস চলাকালীন অপেশাদার আচরণ:
দাপ্তরিক কাজের চেয়ে ক্রীড়ানুষ্ঠানে ডা. তৌহিদের অধিক আগ্রহ সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ আছে, অফিস চলাকালীন তিনি টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলায় মত্ত থাকেন, যার ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

আইনি জটিলতা:
গত ২০২৪ সালের আগস্টের গণআন্দোলনের সময়ও তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছিল এবং তাকে ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

স্বাস্থ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ে শিক্ষিত একজন চিকিৎসকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অরাজকতা বন্ধ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. তৌহিদ আহমেদ কিংবা সিএমএসডি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মিলেনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
error: Content is protected !!