চোরাই পশুর অনুপ্রবেশে বিপর্যস্ত সিলেটের খামারি: প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ! | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

চোরাই পশুর অনুপ্রবেশে বিপর্যস্ত সিলেটের খামারি: প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ!

চোরাই পশুর অনুপ্রবেশে বিপর্যস্ত সিলেটের খামারি: প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ!

Manual7 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবাধে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় চোরাই গরু ও মহিষ। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে সীমান্তের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসা এসব গবাদি পশুর সয়লাবে স্থানীয় খামারিদের ভাগ্যাকাশে এখন চরম অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

সীমান্তের চোরাবালি ও প্রশাসনিক মৌনতা: অভিযোগ উঠেছে, জেলা ও মহানগর পুলিশের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত গবাদি পশু দেশের বাজারে অনুপ্রবেশ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা পরোক্ষভাবে চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করছে।

বৈধতার মোড়কে অবৈধ বাণিজ্য: অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা এসব গবাদি পশুকে বৈধতা দিতে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সীমান্তবর্তী কয়েকটি নির্দিষ্ট হাট। জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর, জৈন্তাপুর ও চিকনাগুল বাজার এবং গোয়াইনঘাটের হাদারপার, পীরের বাজার ও রাধানগর বাজার থেকে এসব চোরাই পশুর অনুকূলে ‘হাটের রশিদ’ বা তথাকথিত বৈধতার সনদ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে দুর্নীতির এই চক্রে অবৈধ অনুপ্রবেশকৃত গবাদি পশু মুহূর্তেই আইনি জটিলতামুক্ত হয়ে প্রবেশ করছে মূল ধারার বাজারে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ছিদ্র: সরেজমিনে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, শাহপরান বাইপাস সড়ক হয়ে এসব গরু-মহিষ নির্বিঘ্নে সিলেট মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, শাহপরান থানাধীন বটেশ্বর এলাকায় পুলিশের একটি স্থায়ী চেকপোস্ট বিদ্যমান থাকলেও সেখানে কার্যকর কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতিতেই গবাদি পশু বোঝাই ট্রাকগুলো বিনাবাধায় অতিক্রম করছে।

Manual7 Ad Code

অস্তিত্ব সংকটে স্থানীয় খামারি: ভারতীয় গবাদি পশুর এই অনিয়ন্ত্রিত জোয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সিলেটের পরিশ্রমী খামারিরা। সংশিষ্টদের আশঙ্কা, সীমান্ত দিয়ে এই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা না গেলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খাত এক দীর্ঘমেয়াদী এবং অপূরণীয় সংকটের সম্মুখীন হবে। এক হতাশ খামারি আক্ষেপ করে বলেন, ঋণগ্রস্ত হয়ে অতি কষ্টে আমরা পশু লালন-পালন করেছি। বাজার যদি ভারতীয় চোরাই গরুর দখলে চলে যায়, তবে আমাদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং আমাদের পথে বসতে হবে। কোরবানির প্রাক্কালে সীমান্ত ও মহানগরের প্রবেশমুখে বিজিবি ও পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার পরও কীভাবে এই বিপুল চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড রক্ষায় অনতিবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code
error: Content is protected !!