পুলিশের কার্ডে গরু পাচার: এসআই ফারুকুল ক্লোজড, তদন্ত শুরু! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
পুলিশের কার্ডে গরু পাচার: এসআই ফারুকুল ক্লোজড, তদন্ত শুরু!

পুলিশের কার্ডে গরু পাচার: এসআই ফারুকুল ক্লোজড, তদন্ত শুরু!

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে এই চোরাচালান রোধ করার পরিবর্তে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই গরু পাচারে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলাম সজিবের ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে চেকপোস্ট পার করার সময় হাতেনাতে গরু ও ট্রাকের দেখা মিলে তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর চেকপোস্টে। তবে এই চোরাচালান রোধে যাদের ওপর দায়িত্ব, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে অপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শকের (এসআই) ফারুকুল ইসলাম সজিবের ভিজিটিং কার্ড দেখালেই চেকপোস্টে মিলে যাচ্ছে চোরাই পণ্যের ‘ছাড়পত্র’। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই মো. ফারুকুল ইসলাম সজিবকে গোয়াইনঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে সিলেট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

ঘটনার বিবরণ:
গত সোমবার সিলেট নগরের প্রবেশদ্বারে সীমান্ত থেকে আসা একটি ভারতীয় গরুর চালান আটক করে পুলিশ। এ সময় ট্রাকচালক মামুনুর রশিদ গোয়াইনঘাট থানার বিছানাকান্দি বিট অফিসার এসআই ফারুকুলের ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। চালকের দাবি, এসআই ফারুকুল তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে এই কার্ড দেখালেই ক্লিয়ারেন্স মিলবে। গরুগুলো বিছানাকান্দি সীমান্ত সংলগ্ন পীরেরবাজার এলাকা থেকে আনা হচ্ছিল।

Manual4 Ad Code

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল রহমান জানান, নবাগত ডিআইজি’র নির্দেশনা অনুযায়ী চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত এসআই ফারুকুল ইসলাম সজিবকে গোয়াইনঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন সড়কে বর্তমানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ যেকোনো পণ্য বা গবাদি পশু আটক করতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​কর্তৃপক্ষের ভাষ্য:
​বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সম্রাট তালুকদার বুধবার সাংবাদিকদের জানান, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হয়। তিনি বলেন- ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটি রোস্টার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানের সখ্যতা দীর্ঘদিনের হলেও পুলিশের সরকারি পরিচয়পত্র বা ভিজিটিং কার্ডকে ‘পাস’ হিসেবে ব্যবহার করা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। ঈদুল আজহার আগে এই অবৈধ তৎপরতা রুখতে এবং পুলিশ বাহিনীর ভেতরে থাকা ‘কালো ভেড়া’ শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
error: Content is protected !!