নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দিগারাইল গ্রামে খাল খননের নামে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিত এই খননকাজের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র সড়কটি। শুধু তাই নয়, খননের প্রভাবে সৃষ্ট ভাঙনে স্থানীয় কবরস্থানের বেশ কয়েকটি পুরোনো কবর ইতোমধ্যে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে, যা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাল খননকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও অপরিকল্পিত পদ্ধতির কারণে এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খননের ফলে দিগারাইলবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন শুরু হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সড়কটি সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় কবরস্থানের অন্তত ৫ থেকে ৬টি পুরোনো কবর ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।
এই চরম দুর্ভোগ ও অনিয়মের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন দিগারাইল গ্রামের বাসিন্দারা। সম্প্রতি গ্রামের প্রায় ২০০ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর প্রধান দাবিগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চলাচলের একমাত্র সড়ক ও অবশিষ্ট কবরস্থান দ্রুত রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। খাল খননে হওয়া অনিয়মের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, এলাকাবাসীর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় কাজ করা কঠিন। বর্ষা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি মজবুত করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। দিগারাইলবাসীর স্পষ্ট দাবি—বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে সড়ক ও কবরস্থানের বাকি অংশটুকুও পানিতে বিলীন হয়ে যাবে। তাই কালক্ষেপণ না করে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Leave a Reply