অন্তরের মাদকরাজ্যে পুলিশের আইওয়াশ অভিযান! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

অন্তরের মাদকরাজ্যে পুলিশের আইওয়াশ অভিযান!

অন্তরের মাদকরাজ্যে পুলিশের আইওয়াশ অভিযান!

Manual4 Ad Code

তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ক্বিন ব্রিজের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন কদমতলী কুমিল্লা পট্টি এবং পার্শ্ববর্তী সুইপার কলোনি (মেথর পট্টি) এখন অপরাধের এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক কিশোর গ্যাং প্রধান, কুখ্যাত জুয়ার এজেন্ট ও মাদক ডিলার ‘অন্তর’। জেল খেটে বেরিয়ে আসার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, আর তার এই লাগামহীন দৌরাত্ম্যে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

লক্ষ টাকার বাণিজ্য ও নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তরের নেতৃত্বে কুমিল্লা পট্টি এলাকায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাদক ও জুয়ার রমরমা বাণিজ্য চলছে। এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা এবং মাদকের বড় বড় চালান নিরাপদে হাতবদলের জন্য সে গড়ে তুলেছে নিজস্ব এক ‘লাঠিয়াল বাহিনী’। শুধু এই ক্যাডার বাহিনীর পেছনেই প্রতিদিন তার ব্যয় হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। জুয়ার আসর পাহারা দেওয়া এবং মাদক কারবারিদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বাহিনীর মূল কাজ। মাসখানেক আগে স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অন্তরকে আটক করা হলেও, জামিনে বেরিয়ে সে তার অপরাধের মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মসজিদের পাশেই মিনি কাষ্ঠঘর নিয়ে জানা গেছে- কলঙ্কিত হচ্ছে ঐতিহ্য অপরাধীদের এই অবাধ বিচরণের কারণে ঐতিহ্যবাহী বারথখলা এলাকার সুনাম আজ চরম হুমকির মুখে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারথখলা জামে মসজিদের মাত্র ৩০ গজ দূরে অবস্থিত সুইপার কলোনিটি এখন মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন ‘মিনি কাষ্ঠঘর’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ সুরমায় সংঘটিত বড় বড় অপরাধের সিন্ডিকেটগুলোর মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই কুমিল্লা পট্টি ও মেথর পট্টি।

Manual4 Ad Code

এলাকার এমন ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ সুরমার সচেতন নাগরিক এবং মসজিদ বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা। তাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে যে অভিযান পরিচালনা করে, তা নেহায়েত ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো।

Manual4 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী বলেন, “মূল হোতারা যতক্ষণ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, ততক্ষণ শুধু রিকশাচালক বা চুনোপুঁটি ধরে এই অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসন সামনের দরজা বন্ধ করে অভিযানের নামে নাটক সাজায়, আর অপরাধীরা পেছনের দরজা দিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যায়।”

Manual2 Ad Code

প্রভাবশালীদের ছায়া ও আগামী প্রজন্মের শঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী কোনো মহলের ‘বড় গাছের ছায়া’ বা খুঁটির জোর ছাড়া দক্ষিণ সুরমার প্রাণকেন্দ্রে এত বড় মাদক স্পট চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এলাকার আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে লোকদেখানো অভিযানের নামে এই প্রহসন বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি কিশোর গ্যাং প্রধান অন্তরসহ পর্দার আড়ালে থাকা সকল ‘রাঘববোয়ালকে’ অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় অচিরেই এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে স্থানীয় যুবসমাজ।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
error: Content is protected !!