তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের কানাইঘাটে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে টানা ১০ দিন আটকে রেখে বর্বরোচিত কায়দায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের জঘন্য ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই রোমহর্ষক ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ এজাহারভুক্ত তিন নরপশুকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট (২০২৬) রাত সাড়ে ১১টা থেকে ৩০ আগস্ট রাত ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ দিন ওই তরুণীকে আটকে রাখা হয়। কানাইঘাট থানাধীন ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামে এক আসামির বসতঘরে আটকে রেখে অভিযুক্তরা ভিকটিমের ওপর জোরপূর্বক পালাক্রমে এই পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। অমানুষিক এই নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৯(৩)/৭/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০২, জিআর নং-১৬৬)।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর পরই আসামিদের ধরতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে প্রশাসন। কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের কঠোর দিকনির্দেশনায় এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযানে নামে।
টানা এই অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে দনা এলাকা থেকে ঘেরাও করে মামলার ১ নম্বর আসামি ও গণধর্ষণের মূল হোতা দুর্ধর্ষ শাহানুর আহমেদ ওরফে শানুকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। সে দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দুর্গম দনা রাঙ্গিছড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার আরেক পলাতক আসামি হুসাইন আহমদকে (২৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। সে দনা রাঙ্গিছড়া গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে।
অন্যদিকে, মামলা দায়েরের দিন অর্থাৎ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দনা পাত্তিছড়া এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিনকে (২২) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এই তিন অপরাধী বর্বরোচিত ও অমানবিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া ও স্বীকারোক্তি আদায়ের পর কড়া নিরাপত্তায় ধৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম তদন্ত রিপোর্ট-কে নিশ্চিত করে জানান, জঘন্য ও পাশবিক এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। জঘন্য এই গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপর ৩ পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।