নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কালভার্ট ও নিষ্কাশন খালের টুঁটি চেপে ধরেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুরছালিন শ্যামল। ক্ষমতার দাপটে সরকারি কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে পুরো একটি গ্রামকে জলমগ্ন করে রেখেছেন এই প্রভাবশালী নেতা। তার এই চরম স্বেচ্ছাচারিতায় উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (লংলাখাল) গ্রামের ৩০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ। গত তিন বছর ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে লংলাখাল মৌজায় পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিগত তিন বছর আগে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে খাল ও কালভার্টের দু’পাশ বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন শ্যামল। পরবর্তীতে জাল দিয়ে ওই স্থানটি নিজের অবৈধ দখলে নেন তিনি। এর ফলে লংলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় গোরস্থান এবং ওই ৩০ পরিবারের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় বসতবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা।
ভুক্তভোগী জামিল, আব্দুল গনি ও রোমান আহমদসহ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই অপকর্ম করেছেন। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার করেও এই দখলদারিত্বের কোনো সুরাহা মেলেনি।
এদিকে, অভিযুক্ত মুরছালিন শ্যামলের কণ্ঠে ঝরেছে চরম দাম্ভিকতা। কালভার্ট ভরাট করে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টির কথা অকপটে স্বীকার করলেও তার দাবি, জায়গাটি তিনি সরকার থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। এমনকি দম্ভভরে তিনি এও বলেন, “মামলা বা মিডিয়ায় নিউজ করে আমার কিছুই করা যাবে না।”
তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী। তিনি জানান, “কালভার্টের মুখ ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। বিষয়টি অবগত হয়েছি এবং এ ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
Leave a Reply