নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ: বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর এবং বিরোধী দল দমনে আগ্রাসী ভূমিকা পালনকারী সুনামগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অভিজিত ভৌমিকের বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও চোরাচালানসহ পাহাড়সম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বালুমহাল থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন খোদ ভুক্তভোগীরা।
এসব লাগামহীন অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে সিলেট রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)-এর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়েরের জোর প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসআই অভিজিত ভৌমিক দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে আসছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে তিনি ছিলেন বিরোধী দল, বিশেষত বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর একচ্ছত্র ‘মহারাজা’। রাজনৈতিক সেই ক্ষমতার দম্ভ ও ছত্রচ্ছায়ায় তিনি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় এবং সীমান্তে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন। তার এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও পেশাদারি অসদাচরণের কারণে স্থানীয় জনজীবন চরম অতিষ্ঠ।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী মহল জানিয়েছেন, আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তার সমস্ত অপকর্ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারা এই ভয়ংকর অভিযোগগুলোর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই অভিজিত ভৌমিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply