মোঃ রায়হান হোসেন: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকায় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকে না। গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাহেবের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফরিং উড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি মো. দিলোওয়ার আহমদের বাড়িতে এক দুঃসাহসিক ও বর্বরোচিত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
দেখা যায়, ডাকাতদের নির্মম তাণ্ডবে পুরো বাড়ি তছনছ হয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ডাকাত দল ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং ছয় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। শুধু লুটপাট করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি,
ডাকাতরা বাড়ির সদস্যদের, বিশেষ করে ভাতিজা ও ভাইকে নির্মমভাবে মারধর করেছে, যার ফলে একজনকে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, ডিজিটাল যুগে এসেও এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না এবং তিনি সন্দেহ করছেন যে পরিচিত কোনো লোকজন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। সকালে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও এয়ারপোর্ট থানা যেন এখন অপরাধীদের ‘সেফ জোন’ এবং চোরাচালানের অলিখিত হেডকোয়ার্টারে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওসি শহিদুর রহমানের নির্দেশে থানার পুলিশ সদস্যরা জনগণের নিরাপত্তা বাদ দিয়ে চোরাচালানের কালো টাকা কামাতে চরমভাবে ব্যস্ত। পুলিশের এই সীমাহীন অবহেলা ও দুর্নীতির সুযোগ কাজে লাগিয়েই অপরাধীরা বিনা বাধায় এমন তাণ্ডব চালানোর সাহস পাচ্ছে।
ওসি শহিদুর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে ও ছত্রছায়ায় জাফলং, হরিপুর, রাধানগর ও দরবস্ত সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় চিনি, জিরা ও কাঁচামাল অনায়াসেই সিলেটে ঢুকছে। প্রতিটি অবৈধ পণ্যবাহী গাড়ির জন্য ৩ থেকে ২৫ হাজার টাকার রেট নির্ধারণ করে চেকপোস্টে ভিআইপি প্রটোকল নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে খাদিমনগর ইউনিয়নজুড়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়ংকর মহোৎসব, যেখানে ওসি উল্টো রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেই এসিল্যান্ডের অভিযানের খবর আগে থেকেই সিন্ডিকেটের কাছে ফাঁস করে দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত আগস্টের আলোচিত ‘জিরা কাণ্ডে’ ৬০ বস্তা জিরার মধ্যে ৫৫ বস্তাই পুলিশ ও চোরাকারবারিদের মিলে ‘হজম’ করার ঘটনা পুলিশের দুর্নীতির সবচেয়ে নগ্ন রূপটি প্রকাশ করে।
এয়ারপোর্ট থানার চেইন অব কমান্ড আজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। যাদের কাঁধে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও অপরাধ দমনের পবিত্র দায়িত্ব, তারাই আজ লুটেরাদের প্রধান পাহারাদার। ওসি শহিদুর রহমান এবং তাঁর সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের এই লুটপাটের রামরাজত্ব অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এই জঘন্য ডাকাতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ডাকাতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে সিলেটের সচেতন মহল।