জাফলং খাস-জমিজুড়ে অস্থায়ী মার্কেট, রুবেলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি! | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

জাফলং খাস-জমিজুড়ে অস্থায়ী মার্কেট, রুবেলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি!

জাফলং খাস-জমিজুড়ে অস্থায়ী মার্কেট, রুবেলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি!

Manual3 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট: সিলেটের জাফলংয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পের পর থেকে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার পুরোটাজুড়ে দোকান আর দোকান। সরকারি খাস-জমির উপর অস্থায়ী দোকান বসিয়ে রমরমা বাণিজ্য চললেও সেদিকে প্রশাসনের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। অবৈধ এসব দোকান থেকে নৈশপ্রহরীর (নাইট গার্ড) নামে বছরে সোয়া কোটি টাকার চাঁদা আদায় হচ্ছে। এসব টাকা চলে যাচ্ছে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার পকেটে।

Manual4 Ad Code

সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে অস্থায়ী দোকানের বিশাল মার্কেট। একইভাবে বল্লাঘাট দিয়ে জিরো পয়েন্ট যাওয়ার পথেও একই চিত্র। ওপরে শামিয়ানা টানিয়ে এক হাজারেরও বেশি অস্থায়ী দোকান রয়েছে জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে। এসবের কোনো অনুমোদন নেই। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলে শুধু দোকানপাট থেকে বছরে কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা যেত। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও তদারকির অভাবে বড় আয়ের খাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এখানে অস্থায়ী দোকান বসাতে প্রথমে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা দিতে হয় সমিতিকে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এই অস্থায়ী মার্কেটে স্থানীয় রুবেল আহমদ নামের এক যুবক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উপেক্ষা করে নিজেকে কার্যকরী সদস্য পরিচয়ে দোকান বরাদ্দের নামে পূনরায় জায়গা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে একক চাঁদা আদায় করছেন। এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে নৈশপ্রহরীর বেতন বাবদ ২০০ টাকা চাঁদা তোলে সমিতি। এছাড়া বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও চাঁদা দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, রুবেল মেম্বার সভাপতি-সেক্রেটারির কথা শোনেন না। তিনি নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে দোকান ভেঙে ফেলার ভয় দেখান। কেউ প্রতিবাদ করলে গালাগালি ও হুমকি দেন।”

Manual7 Ad Code

স্থানীয় সূত্রমতে- রুবেল মেম্বারের রয়েছে নিজস্ব ১০ থেকে ১২ জন ঘনিষ্ঠ অনুসারী, যাদের তিনি নিয়মিত সুবিধা দেন। দোকান বসানো, জায়গা বণ্টন ও চাঁদা তোলার মতো বিষয়গুলোতে তারাই নিয়ন্ত্রণ চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ দোকানদাররা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম সমিতির দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দেবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কিছু লোক নিজেদের স্বার্থে সব নিয়ন্ত্রণ করছে। সভাপতি-সেক্রেটারি কিছু বলতে গেলেও তারা পাত্তা পায় না।

Manual2 Ad Code

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখানে এক হাজার অস্থায়ী দোকান রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দুশ’র বেশি দোকান রয়েছে জাফলংজুড়ে। প্রতিটি দোকানের মালিক ২০০ টাকা করে চাঁদা দিলে এক হাজার ২০০ দোকান থেকে প্রতি সপ্তাহে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা ওঠে। সে হিসেবে ৫২ সপ্তাহ বা এক বছরে এক কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। সরকারের খাসজমির ওপর নির্মিত দোকানপাট থেকে বছরে কোটি টাকার বেশি চাঁদা তুললেও তার কোনো তথ্য নেই গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের কাছে। বছরের পর বছর এই খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা থাকলে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে সমিতির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সাধারণ সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।

Manual8 Ad Code

অভিযুক্ত রুবেল মেম্বারের ব্যবহৃত সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
error: Content is protected !!