সাভার সাব-রেজিস্ট্রার: দলিলে বাধা, ঘুষে সেবা | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
সাভার সাব-রেজিস্ট্রার: দলিলে বাধা, ঘুষে সেবা

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার: দলিলে বাধা, ঘুষে সেবা

Manual7 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট: ঘুষ, দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অফিসে মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো জমির রেজিস্ট্রি হয় না। দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন নেতা, দালাল সিন্ডিকেট ও সাব-রেজিস্ট্রারের কথিত সহকারীর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। এসব টাকা থেকে একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করতে খরচ হলেও অধিকাংশই নিজের কাছে তুলে নেন সাব-রেজিস্ট্রার।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে আসা সাধারণ মানুষদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। “কাগজে সমস্যা আছে” বলে ভয় দেখিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের উৎকোচ। জমির সব কাগজ ঠিকঠাক থাকলেও ‘ফ্রেশ জমি’কে ‘ডোবা’, ‘নালা’ বা ‘পতিত’ হিসেবে দেখিয়ে নেয়া হয় বাড়তি ঘুষ। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে দলিলপ্রতি সহকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। এসব টাকা ‘নাস্তা খরচ’, ‘ম্যানেজ ফি’ বা ‘সহযোগিতা’র নামে নিয়মিতভাবে তোলা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘুষ বাণিজ্য শুধু সাব-রেজিস্ট্রারের একক প্রচেষ্টায় চলছে না। এতে জড়িত রয়েছে অফিসের ক্লার্ক, মোহরার, টিসি মোহরার ও অন্যান্য কর্মচারীরাও। কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তার কাজ আটকে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন নিয়মিত দম্ভভরে বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না, কারণ তিনি “সব জায়গাতেই সিস্টেম করে” রেখেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তিনি প্রতিমাসে গড়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের টাকা আদায় করেন। কোনো কোনো দিন এই অঙ্ক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এসব অবৈধ উপার্জনের একটি অংশ নিয়মিতভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যাতে কেউ প্রশ্ন না তোলে।

Manual2 Ad Code

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন অফিস শেষে সাব-রেজিস্ট্রার ঘুষের টাকা নিয়ে বাসায় ফেরেন। এই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান চালালে তাকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব। সচেতন মহল মনে করছে, তার অনৈতিক কার্যকলাপ রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, একইসাথে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাভারে বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকেই মনে করছেন, আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর দপ্তরের উচিত দ্রুত এই কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের কার্যক্রমের তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Manual1 Ad Code

এর আগে ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার থাকা অবস্থায় মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেখানে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রার সিন্ডিকেট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। এমনকি আদালতে মামলা চলমান থাকা জমিও তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় স্থানীয়ভাবে।

Manual7 Ad Code

সেসময় স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সেলিম এ বিষয়ে অভিযোগ করলে জমির প্রকৃত মূল্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও তখনও সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন দাবি করেছিলেন, জমির মালিকরা ‘নাল’ জমির কাগজ জমা দিয়েছিল বলে ওইভাবে রেজিস্ট্রি করা হয় এবং মামলা চলমান থাকলেও জমি রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বারবার দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও অনিয়মে উৎসাহ পাবে দুর্নীতিপরায়ণ মহল।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
error: Content is protected !!