পিয়াইন নদীতে আলীম সিন্ডিকেটের তাণ্ডব: প্রশাসন নীরব! | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

পিয়াইন নদীতে আলীম সিন্ডিকেটের তাণ্ডব: প্রশাসন নীরব!

পিয়াইন নদীতে আলীম সিন্ডিকেটের তাণ্ডব: প্রশাসন নীরব!

Oplus_16908288

Manual2 Ad Code

গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭নং নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের পিয়াইন নদীতে কোনো প্রকার টেন্ডার বা ইজারা ছাড়াই চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার সালুটিকর সংলগ্ন কচুয়ারপাড়, দ্বারিকান্দি, চৌধুরীকান্দি, বাইমারপাড়, শিয়ালাহাওর, চলিতাবাড়ী ও লক্ষীহাওর এলাকায় পিয়াইন নদীর বুক চিরে প্রতিদিন অবাধে লুণ্ঠন করা হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্যের মূলহোতা চলিতাবাড়ী এলাকার মৃত হরমুজ আলীর ছেলে আলীম উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে এই নৈরাজ্য চললেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual7 Ad Code

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিয়াইন নদীর এই রুটে চলাচলকারী বালু ও পাথর বোঝাই প্রতিটি নৌকাকে টার্গেট করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। সরকারি কোনো ইজারা না থাকলেও আলীম উদ্দিনের নেতৃত্বে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে কথিত ‘রয়্যালটি’। নৌকার সাইজ ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি নৌকা থেকে ৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌকা আটকে রেখে মাঝিদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। দৈনিক শত শত নৌকা থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব তহবিলে যাওয়ার কথা ছিল।

দিনের আলোতে চাঁদাবাজির পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে পিয়াইন নদীর বুক ক্ষতবিক্ষত করছে আলীম সিন্ডিকেট। রাত নামার পরপরই নদীতে নামানো হয় নিষিদ্ধ ও শক্তিশালী ড্রেজার বা বোমা মেশিন। এই ক্ষতিকর প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং নদী রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে।

Manual1 Ad Code

দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকাশ্য লুণ্ঠন ও চাঁদাবাজি চললেও স্থানীয় থানা পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা মূলত সিন্ডিকেটের সঙ্গে পরোক্ষ সমঝোতারই বহিঃপ্রকাশ। নদী ও পরিবেশ ধ্বংসকারী এই চক্রের হাত থেকে পিয়াইন নদীকে রক্ষা করতে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে সিলেট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৭নং নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code