ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট তামাবিল স্থলবন্দর! | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট তামাবিল স্থলবন্দর!

ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট তামাবিল স্থলবন্দর!

Manual1 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: সারাদেশে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানামুখী ও ত্রিমাত্রিক কঠোর অভিযান চলমান থাকলেও, সিলেটের সীমান্তবর্তী তামাবিল অঞ্চলে মাদক কারবারিদের অপতৎপরতা বিন্দুমাত্র স্তিমিত হয়নি। বরং অত্যন্ত সুসংগঠিত ও দুর্ধর্ষ উপায়ে সেখানে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র। গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল গ্রামের রোবেল মিয়ার পুত্র সোহেল আহমেদ (২৫) এই সীমান্ত অঞ্চলের মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উথাপিত হয়েছে।

Manual1 Ad Code

স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই চক্রটির বিপণন প্রক্রিয়া অত্যন্ত আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। কোনো প্রকার শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই কেবল ‘বিকাশ’ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করলেই গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে নিষিদ্ধ এই মাদক। তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে অত্র প্রতিবেদকের পরিচালনায় একটি ছদ্মবেশী অনুসন্ধান (Sting Operation) চালানো হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক নিজেই ছদ্মনামে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে অর্থ প্রেরণ করেন এবং অত্যন্ত সুচারুভাবে ইয়াবার একটি চালান হস্তগত করতে সক্ষম হন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক বিস্তারের ভয়াবহতা এবং এর শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত, তা নতুন করে প্রমাণ করে।

অনুসন্ধানলব্ধ তথ্যাদির ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশের প্রাক্কালে অভিযুক্ত মূলহোতা সোহেল আহমেদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। একই সাথে রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে বিভ্রান্ত করে সাংবাদিককেই মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই চক্রের আদ্যোপান্ত এবং সুনির্দিষ্ট অপরাধের খতিয়ান এখন গণমাধ্যমকর্মীদের নথিতে সংরক্ষিত। মাদক আনার কৌশল ও সীমান্ত গলিয়ে তা দেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সোহেল আহমেদ দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, তামাবিল স্থলবন্দরে যদি ১টি পণ্যবাহী গাড়িও প্রবেশ করে, তবে সেই ১টি গাড়িতেই আসবে আমার ইয়াবার চালান আসবে।

Manual7 Ad Code

তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তামাবিল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা দেশের সামগ্রিক সুরক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করছে।

Manual2 Ad Code

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সোহেল কেবল একা এই বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে না; বরং মাঠপর্যায়ে তার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক বিস্তারে কাজ করছে মোশাররফ, শাহাবুদ্দিন, হারুন এবং আল আমিনের মতো একাধিক কুখ্যাত সহযোগী।

Manual4 Ad Code

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই চক্রের অধীনে শতাধিক খুচরা ও পাইকারি ডিলার মাঠপর্যায়ে ইয়াবা বিপণন ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দোরগোড়ায় ঠেলে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। উল্লেখ্য, এই চক্রের মাদক বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু অডিও রেকর্ড এবং অকাট্য তথ্যপ্রমাণ বর্তমানে প্রতিবেদকের হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এই ভয়াবহ মাদক আগ্রাসনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, তামাবিল স্থলবন্দর ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অনতিবিলম্বে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা না হলে যুবসমাজ এক অপূরণীয় ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ এই কুখ্যাত সিন্ডিকেটকে গুঁড়িয়ে দিতে এবং মূলহোতাসহ সকল অপরাধীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code