নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ‘সবুজ বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মহান ব্রতকে সামনে রেখে সিলেট বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এক অভূতপূর্ব ও সুবিশাল বনায়ন কর্মসূচি সফলতার সহিত সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ আব্দুর রহমান-এর সুচারু দিকনির্দেশনা এবং রেঞ্জ কর্মকর্তার ঐকান্তিক ও নিরলস প্রচেষ্টায়, বিট কর্মকর্তাগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ জবরদখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে জুড়ী রেঞ্জ। এর অংশ হিসেবে সাগরনাল বিটের আওতাধীন হারারগজ রিজার্ভের আমজোড়া এলাকায় সাগরনাল চা-বাগান কর্তৃক বেদখলকৃত ২০.০ একর ভূমি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত উক্ত ভূমিতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন প্রায় ২০,০০০ দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষচারা রোপণের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বাগান সৃজন করা হয়। তদুপরি, পুঠিছড়া বিটের অধীনস্থ গুগালী ছড়া এলাকায় মেরিনা চা-বাগানের অবৈধ দখলে থাকা ১৭.৫ একর বনভূমিও উদ্ধারপূর্বক সেখানে দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করে বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধারেও জুড়ী রেঞ্জ দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বন্য হাতির খাদ্যের অভাব পূরণে ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নিমিত্তে ৩৭.৫ একর ভূমিতে হস্তীখাদ্য উপযোগী বনায়ন এবং ৫২.০ একর ভূমিতে সুবিশাল বাঁশবাগান সৃজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বিভিন্ন বিটে বানর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আহার্যের সংস্থানকল্পে প্রায় ৮২,০০০ ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রবর্তিত “৪ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জুড়ী রেঞ্জে এই সুবিশাল বনায়ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নাসির উদ্দিন আহমেদ একটি লিচুগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিলেট বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জ যে ঐকান্তিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে, তা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সর্বমহলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
Leave a Reply