তদন্ত প্রতিবেদক: সরকারি নিলামের নথিপত্র বা ‘ওকশন পেপার’ জালিয়াতি এবং পরিবহন ব্যবসাকে ঢাল বানিয়ে সিলেটে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ও চাঞ্চল্যকর চোরাচালান সিন্ডিকেট। বৈধ কাগজপত্র বারবার ব্যবহার করে সীমান্ত দিয়ে আনা অবৈধ পণ্যকে বৈধ করার অভিনব কায়দা বেছে নিয়েছে এই চক্রটি। অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই অপকর্মের মূল হোতা তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও অক্ষত রয়েছে এই চোরাচালান নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় তরিকুল নিজেকে সিলেটের অপরাধ জগতের পরাক্রমশালী হিসেবে জাহির করছেন। সীমান্তজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও ‘সুরমা ট্রান্সপোর্ট’-এর মতো বৈধ পরিবহন সংস্থাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জাফলং, হরিপুর, জৈন্তাপুর, লালাখাল, পায়রাখৈল ও গোয়াবাড়ি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত কসমেটিকস, চিনি, জিরা ও মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ চালান দেশে প্রবেশ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জৈন্তাপুরের পায়রাখৈল ও লালাখাল রাবার বাগান এলাকাকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে এই চক্র। পাহাদার দলের কড়া পাহারায় ৫০ কেজি ওজনের চিনির বস্তা পিঠে বহন করে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তরিকুলের মালিকানাধীন পিকআপ ও সুরমা ট্রান্সপোর্টের গাড়িতে বৈধ মালামালের নিচে লুকিয়ে এসব চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সুসংগঠিত দল পরিবহন শ্রমিকের ছদ্মবেশে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ খাদিমনগর পরগনা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩২ বস্তা ভারতীয় চিনি ও একটি ট্রাকসহ তরিকুল বাহিনীর দুই সদস্য মাসুম আহমদ ও নুরুল আমিনকে আটক করে। তবে মূল হোতা তরিকুল কৌশলে পালিয়ে যান। প্রশাসনের অভিযানে সহযোগী সদস্যরা মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও মূল হোতা বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবহন সংস্থার নাম ব্যবহার করে এমন অপরাধ সীমান্ত নিরাপত্তা ও বৈধ ব্যবসার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তরিকুল সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেন, সীমান্ত সংযোগ ও পরিবহন কার্যক্রমের ওপর গভীর গোয়েন্দা তদন্ত চালিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply