বিশেষ প্রতিবেদক: ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও খোলস বদলে এখনো বেপরোয়া সিলেটের চিহ্নিত ভূমিখেকো ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি শেখ আমিনুর রহমান ওরফে ‘পিচ্চি আমিনুর’। গত ১৫ বছর ধরে সরকারি খাস জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং লালন-পালনের মাধ্যমে পুরো ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অলক্ষিত ভূমিকায় জনমনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৪ নম্বর খাদিমপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শেখ আমিনুর রহমান বিগত ১৫ বছর জেলা যুবলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক কাউন্সিলরের ছত্রচ্ছায়ায় বিআইডিসি, আল বারাকা ও বহর পশ্চিম এলাকার বিস্তীর্ণ সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। একসময়ের রংমিস্ত্রি এবং সাধারণ পটভূমির এই ব্যক্তি রাতারাতি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকায় এক ‘নবাবী শাসন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
স্থানীদের অভিযোগ, বহর পশ্চিম ও আল বারাকা এলাকায় কোনো কাজ করতে গেলেই আমিনুরের কাছে মাশুল গোনা কিংবা অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন করে ফের প্রকাশ্যে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছেন এই ডেভিল আমিনুর। বর্তমানে এক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়দাতার হাত ধরে তিনি তার পুরোনো দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে শাহপরান থানা পুলিশ ও সদর উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের মতে, ক্ষমতার পালাবদল হলেও যদি এই চিহ্নিত অপরাধীদের রাজত্ব অব্যাহত থাকে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যবস্থার পরিবর্তনের বার্তা কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর আমিনুরের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু অর্থবিত্ত ও প্রভাব ব্যবহার করে কৌশলে সেগুলোকে ‘আপস-মীমাংসা’র নামে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
একাধিক পরোয়ানা ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শাহপরান থানা পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই চিহ্নিত অপরাধী প্রকাশ্যে খাস জমি বিক্রি ও খাস জায়গা দখল করে যাচ্ছে তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে পুরো ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে। সচেতন এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ে এই ‘ভূমিখেকো’ ডেভিল আমিনুরকে গ্রেপ্তার করে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply