নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এক দুঃসাহসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মাদকসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া করে আন্তঃজেলা মাদক চোরাকারবারি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অদ্য বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মহানগরীর চৌকিদেখী ও সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল চৌকিদেখীস্থ সিটি গেইট এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ-২০-৪১৩০ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি কালো রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস চেকপোস্টের দিকে সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে এলে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িচালক সংকেত অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তাৎক্ষণিকভাবে এসআই মোস্তাফিজুর তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ তীব্র গতিতে মাইক্রোবাসটির পিছু নেন। একপর্যায়ে ধাওয়া করে মজুমদারী লিচু বাগানস্থ বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদের বিপরীতে, পীরমহল্লাগামী রাস্তার মুখে গাড়িটির গতিরোধ করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে আটককৃত মাইক্রোবাসটিতে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৭৫২ পিস বিদেশী মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত কালো মাইক্রোবাসটিও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিন মাদক কারবারি হলেন— সিলেটের বালাগঞ্জ থানার শাহাপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে আব্দুল আজিজ লিমন (৩২), কুমিল্লার চান্দিনা থানার তেয়ারিয়া গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে মো. সাব্বির আহমদ (১৯) এবং একই থানার তেঘারিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রায়হান (২২)।
এ চাঞ্চল্যকর মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এয়ারপোর্ট থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি(১)(বি)/২৫(ডি) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-১০)।
মাদক উদ্ধারের এই সফল অভিযানের বিষয়টি ‘তদন্ত রিপোর্ট’-কে নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান। তিনি জানান, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের এই বিশাল চালানটি পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।