কিশোরীকে যৌনপীড়নের পর ভ্রূণহত্যার অপচেষ্টা, গোয়াইনঘাট জুড়ে চাঞ্চল্য! | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

কিশোরীকে যৌনপীড়নের পর ভ্রূণহত্যার অপচেষ্টা, গোয়াইনঘাট জুড়ে চাঞ্চল্য!

কিশোরীকে যৌনপীড়নের পর ভ্রূণহত্যার অপচেষ্টা, গোয়াইনঘাট জুড়ে চাঞ্চল্য!

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৪ বছর) কিশোরীকে প্রলোভন ও জবরদস্তির মাধ্যমে ক্রমাগত যৌনপীড়ন এবং পরবর্তীতে অর্থলিপ্সু চক্র কর্তৃক অবৈধ পন্থায় গর্ভপাত ঘটিয়ে অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার এক হীন ও নারকীয় ঘটনার উন্মোচন ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্যানুসারে, উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রাম বরইকান্দি নিবাসী লম্পট আব্দুর রহমান ওরফে কটন আলী (৫৫) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিবেশী আমীর আলীর অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার কায়িক নিপীড়ন প্রযোগ করেন। কালক্রমে ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে পরিবার কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার দুই মাসের গর্ভসঞ্চারের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়।

Manual2 Ad Code

অনুসন্ধানে প্রকাশ, অপরাধের বার্তা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কটন আলী এবং তার সহযোগী চক্রের সদস্য- মছব্বির আলী, ইসলাম উদ্দিন, মশাহিদ আলী, শামীম আহমদ ও নাজমা বেগম। ভুক্তভোগীর দরিদ্র পরিবারকে চরম প্রাণনাশের হুমকি এবং মোটা অঙ্কের অর্থ উৎকোচের প্রলোভন প্রদর্শন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে অসহায় পিতাকে সামাজিক সালিসের ছলে ভুল বুঝিয়ে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক সেবিকার সহযোগিতায় এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অনৈতিক উপায়ে কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানো হয়। বর্তমানে মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন ও জীবন-সংকটে রয়েছে।

Manual8 Ad Code

গ্রামের একাধিক মুরব্বি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবার চরম দরিদ্র ও সামাজিক কাঠামোর বিচারে প্রপ্রান্তিক হওয়ায় সুবিচার বঞ্চিত হয়েছে। উপরন্তু, প্রায় দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ও সাড়ে পনেরো হাজার টাকা চিকিৎসাবাবদ লেনদেনের মাধ্যমে এই জঘন্য অপরাধের সামাজিক রফা করার পাঁয়তারা চলছে। অভিযুক্তের নিকটাত্মীয়রা ঘটনার সত্যতা এবং আপোসের চেষ্টার কথা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে স্বীকার করেছে। জানা যায়, অভিযুক্ত কটন আলী পূর্বেও অনুরূপ নৈতিকতার চরম অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ডের দায়ে নিজ গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। এহেন জঘন্য পাশবিকতা ও বিচারবিঘ্নকারী চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।

উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক মোড়ল জানান, বিষয়টি সবেমাত্র তাদের গোচরীভূত হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code