তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেট সীমান্তে চোরাকারবারীদের সিন্ডিকেটে বিজিবির চরম আঘাত! জকিগঞ্জে এক রাতেই প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য ও গবাদিপশু জব্দ।
সীমান্তে চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাতের অন্ধকারকে পুঁজি করে অবৈধভাবে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যের চালান আটকে দিয়েছে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)। ২৩ অক্টোবর সিলেটের কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার অবৈধ মালপত্র ও গবাদিপশু জব্দ করেছে বিজিবি’র টহল দল।
রাতের আঁধারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলছিল চোরাচালানের মহোৎসব। কিন্তু বিজিবি’র কড়া গোয়েন্দা নজরদারির কাছে টিকতে পারেনি পাচারকারীরা। ২৩ অক্টোবর গভীর রাত আনুমানিক ২টা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সুরাইঘাট বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল হানা দেয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ গজ ভেতরে, বাদশাবাজার এলাকায়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালপত্র ফেলেই চম্পট দেয় চোরাকারবারীরা। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ২৮০ প্যাকেট অবৈধ ভারতীয় সিগারেট, ১৮৩ পিস নিভিয়া লোশন এবং ২০ পিস কম্বল। যার আনুমানিক সিজারমূল্য ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২০০ টাকা।
বিজিবির এই সাঁড়াশি অভিযান এখানেই থেমে থাকেনি। একই রাতে জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের গুয়াবাড়ি এবং লোভাছড়া বিওপির আওতাধীন এলাকায় আরও দুটি জোরালো অভিযান পরিচালনা করে ১৯ বিজিবি। এই পৃথক অভিযান থেকে জব্দ করা হয় ৪টি ভারতীয় মহিষ এবং ১২০ বিড়া খাসিয়া পান। যার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৭ লক্ষ ৭১ হাজার ২০০ টাকার অবৈধ চোরাচালান রুখে দিয়ে সীমান্তে নিজেদের ইস্পাতকঠিন অবস্থানের জানান দিল জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন। জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ মালামাল কাস্টমসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং চোরাচালানের মতো দেশবিরোধী অপরাধ দমনে এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়, সীমান্তে এখন শুধুই ‘জিরো টলারেন্স’।