তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় চোরাচালান দমনে এক বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। উক্ত অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিস্কিট এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়েছে, যার সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর এক আসামি সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এজাহার অনুযায়ী, সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ শাহাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গত ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ অবৈধ ভারতীয় পণ্যবাহী একটি ট্রাকের অবস্থান সম্পর্কে গোপন সংবাদ প্রাপ্ত হয়।
সংবাদ যাচাইয়ের নিমিত্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ২২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে গোয়াইনঘাট থানাধীন ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়নের অন্তর্গত লাকি সাকিনস্থ জনৈক আব্দুল হকের স-মিলের সামনের কাঁচা রাস্তায় পুলিশ দল উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে লাকি পূর্বপাড়া গ্রামের কাচা মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে একই এলাকার লাকি মাঝপাড়া গ্রামের মুহিবুর মিয়ার ছেলে আনোয়ার মিয়া (৩৫) দৌড়াইয়া কৌশলে পালিয়ে যায়।
এজাহারে তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ উক্ত ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭৭ কার্টুন ‘MALKIST CRACKER BISCUITS’ উদ্ধার করে, যার প্রতিটিতে ৬০টি করে মোট ১০ হাজার ৬২০ প্যাকেট বিস্কিট ছিল। এর আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পাশাপাশি, ১৮ কার্টুন ‘OREO CHOCO CREME SANDWICH BISCUIT’ উদ্ধার করা হয়, যাতে মোট ২ হাজার ১৬০ প্যাকেট বিস্কিট ছিল এবং এর আনুমানিক মূল্য ৪৩ হাজার ২০০ টাকা। অবৈধ মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘TIPPER TATA 2018’ মডেলের একটি ড্রাম ট্রাকও (রেজিস্ট্রেশন নং- সিলেট মেট্রো-ট-১১-০১৪৯) জব্দ করা হয়, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি জুয়েল আহমদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল।
এ ঘটনায় এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি(১)(বি) ও ২৫ডি ধারায় গোয়াইনঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ দমনে পুলিশের এহেন অনমনীয় ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।