কুলাউড়ায় সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

কুলাউড়ায় সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

কুলাউড়ায় সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

Manual8 Ad Code

কুলাউড়া সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর বাজার এলাকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনজুর আলম চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মইনুল ইসলাম সবুজের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল গভীর রাতে বাড়িটির সামনে উপস্থিত হয়। পরে তারা দরজা-জানালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল ও ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

মনজুর আলম চৌধুরী পরিবারসহ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করায় ঘটনার সময় বাড়িটিতে কেউ ছিলেন না। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে দরজা-জানালা ভাঙার শব্দ শুনে আশপাশের কয়েকজন প্রতিবেশী ঘর থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তবে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তারা বাধা দিতে পারেননি।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী বলেন, “রাতের নীরবতার মধ্যে দরজা-জানালা ভাঙার বিকট শব্দ শুনে আমরা কয়েকজন বাড়িটির দিকে এগিয়ে যাই। সেখানে কয়েকজনকে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙতে এবং বিভিন্ন মালামাল বাইরে নিয়ে যেতে দেখি। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা রামদা দেখিয়ে বলে, কেউ সামনে এগিয়ে এলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে। প্রাণের ভয়ে আমরা আর সামনে যেতে পারিনি।”

Manual7 Ad Code

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মনজুর আলম চৌধুরী ও তার বোন রেকসোনা সুলতানা চৌধুরী তাদের বাবা ওয়াজেদ আলী চৌধুরী এবং বড় ভাই সরওয়ার আলম চৌধুরীর হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ওই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী পক্ষ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

Manual4 Ad Code

মনজুর আলম চৌধুরীর আত্মীয় মোঃ ছাদিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ঘটনার আগের দিন ৫ আগস্ট তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করার পাশাপাশি তার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

মোঃ ছাদিকুর রহমান বলেন, “মইনুল ইসলাম সবুজ ও তার সহযোগীরা একাধিকবার আমার কাছে রেকসোনা সুলতানা চৌধুরী এবং মনজুর আলম চৌধুরীর অবস্থান জানতে চেয়েছে। তারা বলেছে, দুজনকে দেশে ফিরে এসে হত্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমি তাদের জানিয়েছি, তারা বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা মামলা প্রত্যাহার করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তারা ৫ আগস্ট আমার বাড়িতে হামলা চালায়, আমাকে মারধর করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।”

হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানান। পরে কুলাউড়া থানায় গিয়ে মইনুল ইসলাম সবুজ, সাইফুর রহমান, এ আর সাজেদ এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলে তার দাবি।

মোঃ ছাদিকুর রহমান আরও বলেন, “আমার বাড়িতে হামলার পরদিন মনজুর আলম চৌধুরীর তালাবদ্ধ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে আমরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।”
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, মইনুল ইসলাম সবুজ একসময় কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সূত্রটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মইনুল ইসলাম সবুজ ও তার কয়েকজন সহযোগী কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ তিনি কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে মইনুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
মোঃ ছাদিকুর রহমানের অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে কুলাউড়া থানার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code