ছয় বছরে শেষ হয়নি দেড় বছরের কাজ | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

ছয় বছরে শেষ হয়নি দেড় বছরের কাজ

ছয় বছরে শেষ হয়নি দেড় বছরের কাজ

ছয় বছরে শেষ হয়নি দেড় বছরের কাজ
ছয় বছরে শেষ হয়নি দেড় বছরের কাজ

Manual7 Ad Code

মুজিবুর রহমান রনি, দোয়ারাবাজার: সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বিগত ২০১৮ সালের (২০ অক্টোবর) উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সাইডিং ঘাট সংলগ্ন হিজলতলায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

Manual3 Ad Code

নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়সীমা ৫৪০ দিন অর্থাৎ দেড় বছর থাকলেও কাজ শুরুর প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ। ফলে পাঠদান কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটছে। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়ও বাসিন্দারা।।স্থানীয়রা জানান- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঠিকাদারের টালবাহানায় দেড় বছরের কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

জানা গেছে- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৮ টাকা বরাদ্দে দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচতলা অ্যাকাডেমিক কাজ চারতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের সাথে ওয়ার্কশপ ও একতলা সার্ভিস এড়িয়াসহ পয়ঃনিষ্কাসন, বিদ্যুতায়ন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাকরণ, বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ পায় ময়মনসিংহের মেসার্স ভাওয়াল কন্সট্রাকশন ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রা. লি.) এবং ঢাকার গুলশান নিকেতন এলাকার এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে চুক্তিতে লাইসেন্স এনে কাজ করছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা- জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ঠিকাদার মাহতাবুল হাসান সমুজ।

Manual3 Ad Code

লামাসানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী বলেন- ‘সময়মতো কাজ সম্পন্ন হলে আরো চার বছর আগে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা যেতো। কাজের ধীরগতি হওয়ায় আমাদের উপজেলার শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’

Manual2 Ad Code

শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন- ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ করতেই যদি ছয় বছর লাগে তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম কীভাবে শুরু হবে? এখানে ঠিকাদারের গাফিলতি আছে। প্রশাসনেরও তদারকির অভাব আছে।’

দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এ. এস. এম. নাঈম বলেন- ‘আমি যোগদানের পর বিগত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। নির্মাণ কাজ আরো আগে শেষ করা গেলে আরো আগেই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যেতো। কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। অফিস রুমও স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি।’

ঠিকাদার মাহতাবুল হাসান সমুজ বলেন- ‘জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এখন কাজ প্রায় শেষের পথে। একমাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

Manual3 Ad Code

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন- ‘আমি সুনামগঞ্জে যোগদান পর থেকে দেড় বছর ধরে দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজে গতি পেয়েছে। এর আগে শুনেছি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমি যোগদান করেই এই কাজটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়েছি। আমি আশাবাদী দুয়েক মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
error: Content is protected !!