নিয়োগ বাণিজ্য ও কোটি টাকার দুর্নীতি: তোপের মুখে ডিআইজি কুদ্দুস! | তদন্ত রিপোর্ট

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

নিয়োগ বাণিজ্য ও কোটি টাকার দুর্নীতি: তোপের মুখে ডিআইজি কুদ্দুস!

নিয়োগ বাণিজ্য ও কোটি টাকার দুর্নীতি: তোপের মুখে ডিআইজি কুদ্দুস!

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: খুলনা পিটিসি (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন হয়ে সদ্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অসংগতির ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। ক্যাডেটদের খাবারের টাকা আত্মসাৎ, আগের কর্মস্থলের মেস বিল পরিশোধ না করা এবং পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

Manual2 Ad Code

পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনা পিটিসি-তে দায়িত্ব পালনকালে প্রশিক্ষণরত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত খাবারের ম্যানু থেকে প্রতিনিয়ত পুষ্টিকর আইটেম বাদ দিয়ে তিনি মাসে গড়ে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা পকেটে পুরতেন। বিষয়টি নিয়ে সে সময় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন সৈন্যদের শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নাকি খাবারের ম্যানুতে এই কাটছাঁট করা হয়েছিল! শুধু তা-ই নয়, একটি পদস্থ মেসে অবস্থান করে সেখানকার নিয়মিত খাবারের বকেয়া বিল আজও পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual7 Ad Code

পরবর্তী সময়ে তৎকালীন বিতর্কিত আইজিপি বাহারুল আলমের মেয়াদে তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপি) পদায়ন করা হয়। সিলেটে থাকাকালে তার নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধানের কাজ চলছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তার সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়নকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট মহলের গুঞ্জন ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ‘লন্ডনী ফাহিম’ নামের এক বিতর্কিত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রভাবশালী ডিআইজি পদটি বাগিয়ে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী এবং আড়ালে থেকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত কুদ্দুস চৌধুরীর মতো কর্মকর্তারা যেখানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিচ্ছেন, সেখানে নাজমুল করিম বা আরেফের মতো দেশপ্রেমিক ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তারা সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়ে অলস সময় পার করছেন। সম্প্রতি পদায়নে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে চার জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন যদি চার এসপির বিরুদ্ধে একই অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে সাড়ে ৭ কোটি টাকার লেনদেনে অভিযুক্ত ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে কেন পদ বহাল রাখা হবে? বিচার হতে হবে বৈষম্যহীন ও সমান।

Manual5 Ad Code

এ অবস্থায় চট্টগ্রামের ও সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে বিতর্কিত ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পদ থেকে প্রত্যাহার ও তার যাবতীয় দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের তীব্র দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দপ্তরগুলোতে ঘিরে থাকা নির্দিষ্ট অসাধু বলয় এবং লন্ডনী ফাহিমদের সঙ্গে এসব কর্মকর্তার নেপথ্য সম্পর্কের স্বরূপ উন্মোচনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জোর দাবি উঠেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code