ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মারামারির মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে ঘর তল্লাশির নামে ঘরে থাকা ছাগল বিক্রির ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত। উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে মারামারি মামলার আসামি বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চার পুলিশ সদস্য। বাড়িতে আসামিকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পরিবারের লোকজনকে গালিগালাজ করেন এবং ঘরে তল্লাশি শুরু করেন।
বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী কমলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগে দুটি ছাগল বিক্রি করে ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রেখেছিলাম। এর মধ্যে কিস্তির ৮ হাজার ৫০০ টাকা আলাদা ছিল। বাকি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে একটি কৌটার ভেতর রাখা ছিল। ঘরে প্রথমে এসআই রাজ্জাক এবং পরে আরও তিনজন পুলিশ সদস্য ঢোকেন। তাঁরা ছাড়া আর কেউ ঘরে যায়নি। পুলিশ চলে যাওয়ার পর দেখি কৌটার ভেতরের ২৫ হাজার ৫০০ টাকা গায়েব।
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে কমলা খাতুন আরও জানান, স্থানীয়ভাবে থানার ওসির মাধ্যমে বিচার না পেলে তিনি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন। এই ঘটনায় পুলিশের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষোভ ও মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এসআই আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “মামলার আসামিকে ধরতে আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি শেষে চলে আসি। টাকা নেওয়ার অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্টো ওই নারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, অচিরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম শুনেছেন। এই বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
Leave a Reply