তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও গুরুতর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে’র বিরুদ্ধে।
সরকারি বদলি নীতিমালা ও প্রচলিত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোনো প্রকার প্রতিস্থাপন ছাড়াই একাধিক শিক্ষককে বদলি করার নজির সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর যেসব বিদ্যালয়ে বৈধভাবে শিক্ষক প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোতেও বদলির অনুমতির জন্য শিক্ষকদের কাছে বিপুল অঙ্কের উৎকোচ দাবি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলির ক্ষেত্রে মূল বিদ্যালয় থেকে বিকল্প শিক্ষক যোগদানের পর বদলি হওয়া শিক্ষকের যাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে প্রায় এক বছর আগে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খাগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেঙাখই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহজালাল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অবৈধ বদলির ঘটনা ঘটেছে। সরেজমিন তদন্ত করলেই এসব অনিয়মের লোমহর্ষক সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
সম্প্রতি নতুন শিক্ষক নিয়োগের ফলে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার খামখেয়ালি ও অনুমতি ছাড়া সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বদলির চূড়ান্ত অনুমতির জন্য অপেক্ষমাণ শিক্ষকদের জিম্মি করে চড়া অংকের টাকা দাবি করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে।
অন্যান্য উপজেলায় নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর স্বচ্ছতার সাথে প্রতিস্থাপন ও বদলি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হলেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এটি এখন চরম ভোগান্তির নামান্তর। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং দীর্ঘদিনের বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত সেলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং কল রিসিভ না করায় তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি, সরকারি নীতিমালা ও বদলির আইন লঙ্ঘন করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে যারা এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কেন বৈধ প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরও শিক্ষকদের বদলির অনুমতির জন্য পদে পদে হয়রানি ও ঘুষ দিতে হবে, এর দায়ভার কে নেবে? সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে এই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।