দশ মাসে বন্ধ ৪১ কারখানা, ধস নেমেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাসা ভাড়ায় | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
বড় কর্তারা আড়ালে, বলির পাঁঠা মাঠপর্যায়ে জনবল, ওষুধ ও বিদ্যুৎহীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেনও নিজেই অসুস্থ্য! গোয়াইনঘাটে শিক্ষক বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গোয়াইনঘাটে গরু থেকে মালয়েশিয়ার রিটার্ন টিকিটও ঘুষ নেন শিক্ষা কর্মকর্তা! সমাজসেবায় নিবেদিত মোহাম্মদ কামরুল কায়েস চৌধুরী নীরবতার আড়ালে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতি: বাংলাদেশ যাচ্ছে কোন পথে? কানাইঘাট মাদক-চোরাচালানে পুরোদমে বেপরোয়া ইয়াসিন: নির্বিকার পুলিশ! সিলেটে চোরাই বাণিজ্যে বিএনপি নেতা রুস্তমের উত্থান, প্রশ্নবিদ্ধ শিবেরবাজার ফাঁড়ি জ্বীনের বাদশা গ্রেপ্তার দিরাই-শাল্লা সড়ক নির্মাণকাজে ধীরগতি
দশ মাসে বন্ধ ৪১ কারখানা, ধস নেমেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাসা ভাড়ায়

দশ মাসে বন্ধ ৪১ কারখানা, ধস নেমেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাসা ভাড়ায়

Manual1 Ad Code

সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট 

Manual5 Ad Code

পোশাক শিল্পে চলমান নানা অস্থিরতা ও সংকটের কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা। শুধু গাজীপুর জেলাতেই গত ১০ মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৪১টি কারখানা। ফলে চাকরি হারিয়ে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাসা ভাড়ায় ধস নেমেছে— উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে আয় ও চাহিদা।

মালিক-শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, জেলায় ছোট-বড় দুই হাজার ১৭৬টি নিবন্ধিত কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পোশাক কারখানার সংখ্যা এক হাজার ১৫৪টি। ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৪১টি কারখানা স্থায়ী ও দুটি কারখানা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অর্ডার না থাকা, আর্থিক সমস্যা, কাঁচামালের অভাব নানা সমস্যার কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এতে হাজার হাজার শ্রমিক পেশা বদল করতে দেখা গেছে।

এদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ি ভাড়াসহ নানা ক্ষুদ্র পেশায় ধস নেমেছে। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভাড়া বাসা বদল করে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়েছেন অনেকে। মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, শ্রীপুর ও টঙ্গী এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকরা কারখানা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চাকরি নিয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ পোশাক শ্রমিক চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। নারী পোশাক শ্রমিকদের মধ্যেও অনেকে অন্যত্র গিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। কেউ কেউ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

Manual6 Ad Code

অনেকে আবার গাজীপুরে থেকে টেইলারিং ও কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

Manual2 Ad Code

মহানগরীর কাশিমপুরের বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিক রমজান আলী বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ বছর বেক্সিমকো কারখানায় চাকরি করতাম। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখানকার প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের চাকরি চলে যায়। অনেকে বেকার হয়ে যান। অনেকে অন্যত্র চাকরি নেয়। আমি পাশে একটি ছোট কারখানায় কাজ নিয়েছি। পরিবার নিয়ে কোনো মতে চলছি। তবে চাকরিচ্যুত বেশিরভাগ শ্রমিক এলাকা ত্যাগ করেছেন।

ওই এলাকার মুদি দোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার টাকা বিক্রি হতো এখন সেটি ৩-৪ হাজারে নেমে এসেছে। এলাকায় আগের মতো বেচাকেনা নেই।

ওই এলাকার বাড়িওয়ালা লোকমান হোসেন বলেন, ‘এক সময় বাসা ভাড়ার জন্য প্রতিদিন লোক আসতেন। এখন ভাড়াটিয়ার চাপ কমে গেছে। অনেকের বাসা খালিও থাকছে। কোনাবাড়ি এলাকায়ও কেয়া গ্রুপের বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যান। ’

বন্ধ কারখানাগুলোর মধ্যে মহানগরীর সারাবো এলাকার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি, টঙ্গির সাতাইশ এলাকার টিএমএস অ্যাপারেলস, কোনাবাড়ীর এলাকার পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, টিআরজেড, দি ডেল্টা নিট, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার নায়াগ্রা টেক্সটাইল ও মাহমুদ জিন্স অন্যতম।

এদিকে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তারা ভাঙচুর, বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটান। এতে প্রায় সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘এক বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করেনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা সমূহের শ্রমিকদের পাওনাদিও কারখানা মালিকরা পরিশোধ করেন না। এতে অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করেন।

Manual6 Ad Code

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে জেলায় অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আর্থিক সমস্যা, কাঁচামালের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে। এছাড়াও কারখানা খুলে দেওয়া ও বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মহীন শ্রমিকদের অনেকে সড়ক-মহাসড়কে নামে। তাদের আন্দোলন থামাতেও পুলিশের অনেক বেগ পেতে হয়। ’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
error: Content is protected !!