মোঃ রায়হান হোসেন: সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসবের কারণেই সিলেটে মুহিত কমপ্লেক্সের পচা ও মলমূত্রযুক্ত পুলে চলছে ‘নতুন কুঁড়ি’র সাঁতার আয়োজন। দীর্ঘ বিরতির পর দেশব্যাপী পুনরায় শুরু হওয়া সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা সিলেটে অসাধু কর্মকর্তাদের চরম দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় বাছাই করে বিকেএসপি-তে উন্নত প্রশিক্ষণের যে মহতী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজের যোগসাজশে তা আজ মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেটের আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সাঁতারের বাছাই পর্বে শিশুদের মলমূত্র ও শ্যাওলাযুক্ত পচা পানিতে নামতে বাধ্য করার মতো অমানবিক চিত্র সামনে এসেছে।
সাঁতার প্রতিযোগিতার মূল ভেন্যু সুইমিং পুলটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এর পানি কালচে সবুজ, দুর্গন্ধযুক্ত এবং মশা-মাছিতে পূর্ণ পচা কাদাপানিতে পরিণত হয়েছে, যা কোনোভাবেই মানুষের ব্যবহারের উপযোগী নয়।
কমপ্লেক্সের বাথরুমগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ, পানির কোনো ব্যবস্থা নেই এবং মেঝেতে মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে প্রবেশ করা অসম্ভব। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোমলমতি শিশু ও তাদের অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা পানিতে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অনেক শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, এটি নিছক কোনো অব্যবস্থাপনা নয়, বরং প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত কোটি কোটি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতে এবং সরকারের এই সুন্দর উদ্যোগটি বানচাল করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। জাতীয় পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে এমন জঘন্য পরিবেশ দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদদের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
এই নজিরবিহীন দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক (সিটি করপোরেশন) নান্নু মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সরকারের এমন মহতী উদ্যোগকে নষ্ট করার নেপথ্যে জড়িত দুর্নীতিবাজদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে সিলেটের সচেতন মহল।