জৈন্তাপুরে ডিভাইস-টোকেনসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার: পলাতক ৩ | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুরে ডিভাইস-টোকেনসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার: পলাতক ৩

জৈন্তাপুরে ডিভাইস-টোকেনসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার: পলাতক ৩

Manual6 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অবৈধ ‘শিলং তীর’ নামক জুয়া পরিচালনার অভিযোগে চার সংঘবদ্ধ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৩শে মে রাতে জৈন্তাপুর বাজারস্থ পুরাতন বিদ্যুৎ অফিসের সম্মুখ হতে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত এনড্রয়েড ও বাটন মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং জুয়ার নাম্বার সংবলিত মুড়ি বহি (টোকেন খাতা) জব্দ করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

থানা সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) বিদ্যুৎ পুরকায়স্থের নেতৃত্বে এএসআই গোলাম কিবরিয়া, কনস্টেবল আব্দুল হালীম ও কনস্টেবল অভিষেক বর্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস পুলিশ দল বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত স্থানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন সুচতুর জুয়াড়ি দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পলায়ন করলেও, পুলিশ বেষ্টনী তৈরি করে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো—নিজপাট মাহুতহাটির শমছুল ইসলামের পুত্র কয়েজ আহমদ (৩৫), টেংরা গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র লুৎফুর রহমান (৬০), রাজবাড়ী গ্রামের মৃত মাইন উদ্দিনের পুত্র আক্তার হোসেন (২২) এবং নিজপাট তোয়াশীহাটির প্রিয়লাল চন্দ্র দেবের পুত্র সজল দেব (২৮)।

উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষী এবং পুলিশ ফোর্সের সম্মুখে ধৃত আসামীদের দেহ তল্লাশী করে কয়েজ আহমদের নিকট হতে একটি ইনফিনিক্স (Infinix X6858) এনড্রয়েড মোবাইল, লুৎফুর রহমানের নিকট হতে একটি আইটেল (itel t5621) ফিচার ফোন ও জুয়ার টোকেন লেখার মুড়ি বহি, আক্তার হোসেনের নিকট হতে একটি ইনফিনিক্স (Infinix X6725) এনড্রয়েড মোবাইল এবং সজল দেবের নিকট হতে জুয়ার টোকেন লেখার অপর একটি মুড়ি বহি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসসমূহ পর্যালোচনা করে সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত শিলং তীর জুয়া পরিচালনার অকাট্য তথ্য ও প্রমাণাদি উদ্ধার করে পুলিশ।

Manual5 Ad Code

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনের বিভিন্ন মেসেজিং এবং কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করে এই সর্বনাশা জুয়া খেলা পরিচালনা করে আসছিল। অধিকন্তু, এই চক্রটি অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে আসছিল বলে জানা যায়।

অভিযানে আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই চক্রের মূল হোতা ও সহযোগী হিসেবে আরও তিন পলাতক আসামীর নাম প্রকাশ পেয়েছে। তারা হলো— মাহুত হাটির মোঃ ফয়জুল রহমানের পুত্র মো: ফখরুল ইসলাম (৪২), বিছনাটেক গ্রামের জুলফিকার প্রকাশ লেপ (৫৫), এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা (বর্তমানে নিজপাট পুরাতন বিদ্যুৎ অফিসের সামনে চায়ের দোকানদার) সোহেল। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে।

Manual8 Ad Code

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জুয়া খেলার আয়োজন, প্রচার এবং আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার অপরাধে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন জনিত অপরাধে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
error: Content is protected !!