তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: সিলেটে ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ায় রুমানা জান্নাত লিজা নামের এক নারীকে নৃসংশভাবে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নাজিম উদ্দিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা নাজিম ও তার সহযোগীদের অব্যাহত তাণ্ডবে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনার সূত্রপাত ও ষড়যন্ত্র:
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৩ই এপ্রিল সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে লিজাকে পরিকল্পিতভাবে এক অভিনব চক্রান্তে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, লিজার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে নাজিম উদ্দিন ষড়যন্ত্র করেন। সে লিজাকে ‘ভুয়া আইনজীবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনসমক্ষে অপদস্থ ও হেনস্তা করিয়েছেন কৌশলে। লিজার পরিবার কথিত পাওনাদারকে অর্থ বুঝিয়ে দিতে চাইলেও অদৃশ্য কারণে সেই পাওনাদারকে সম্মুখে উপস্থিত করতে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্টরা, যা এই ষড়যন্ত্রের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
বর্বরোচিত হামলা ও রক্তাক্ত জখম:
আদালত পাড়ার লাঞ্ছনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬শে এপ্রিল শাহজালাল উপশহর এলাকায় লিজার ওপর অতর্কিত ও পাশবিক হামলা চালায় নাজিম ও তার ক্যাডার বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাওনা টাকা যাতে আর লিজা দাবি না করে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজিম ও তার সহযোগীরা লিজাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে কাঁচের বোতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। লিজাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হলে তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা:
এই নৃসংশ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী লিজা বাদী হয়ে মদিনা মার্কেটের নাজিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ এ প্রসঙ্গে জানান:
”আমরা অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি। একজন নারীর ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পরাকাষ্ঠা:
বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানো এই নারীর করুণ দশা সিলেটের সুশীল সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া যেখানে আইনত অধিকার, সেখানে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত একজন নারীকে যেভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করা হয়েছে, সেখানে নৈতিক স্খলন ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে। অর্থলিপ্সার বশবর্তী হয়ে যারা এরূপ কর্মকান্ড করে সিলেটকে কলঙ্কিত করছে এবং রাজপথে রক্তক্ষয়ী উল্লাস চালাচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply