নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই (এডমিন) মোঃ শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, রেকার-বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ‘সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন’। প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি নগদ ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে আদায় করছেন বলে দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সংগঠনটি।
গত ১১ জুন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এই অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়।
ডিআইজি বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, টিআই এডমিন মোঃ শাহাব উদ্দিন সিলেট ট্রাফিক বিভাগে যোগদানের পরপরই নিজের কেনা ৪টি রেকার সিলেটে নিয়ে এসেছেন। তিনি সিলেট-জকিগঞ্জ রোড, সিলেট-তামাবিল রোড, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ রোড, সিলেট-সুনামগঞ্জ রোড এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর থানার সামনে এসব রেকার দাঁড় করিয়ে চেকপোস্ট বসিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব চেকপোস্টে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিটি মালবাহী গাড়ি থেকে নগদ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এভাবে সব চেকপোস্ট মিলিয়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে।
হয়রানির একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, গত ১০ জুন সিলেট-তামাবিল রোডে একটি গাড়ির সব কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘রঙের ত্রুটি’র অজুহাতে ৫ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়। সবকিছু সঠিক থাকার পরও এমন হয়রানিমূলক জরিমানার কারণে স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাছুম আহমদ লস্কর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, টিআই শাহাব উদ্দিনের এমন চাঁদাবাজি ও কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে যেকোনো সময় সিলেটে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চিঠিতে উল্লিখিত বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিআইজির কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
Leave a Reply