গোয়াইনঘাটে পুলিশের মদদে চোরাচালানের মহোৎসব! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে পুলিশের মদদে চোরাচালানের মহোৎসব!

গোয়াইনঘাটে পুলিশের মদদে চোরাচালানের মহোৎসব!

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং সীমান্ত এলাকা এখন রীতিমতো চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের তীর খোদ আইনরক্ষকের দিকে! স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো অভিযোগ, পুলিশের বিট অফিসার এসআই ফয়েজের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশে ১২৬৩ ও ১২৬৪ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে প্রতিদিন অবাধে ঢুকছে ভারতীয় হরেকরকমের পণ্য ও মাদক।

Manual7 Ad Code

রাতের আঁধারে অবৈধ বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট:
স্থানীয় সূত্রমতে, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে চোরাচালানের এই মহোৎসব। এই বিশাল সিন্ডিকেটের মাঠপর্যায়ে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করছেন কামরুল ও আব্দুল্লাহ। তাদের নেতৃত্বেই সুসংগঠিত চোরাকারবারিরা শত শত ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পণ্য পাচার করছে। এসব পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভারতীয় গরু ও মহিষ, চিনি ও জিরা, বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যসহ চোরাই মোটরসাইকেল।

পথে বসার উপক্রম স্থানীয় খামারিদের:
চোরাচালানের এই অবাধ প্রবাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার প্রান্তিক খামারিরা। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় রাধানগর পশুরহাট এখন ভারতীয় গরু-মহিষে সয়লাব। দেশি গরু-মহিষের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

Manual3 Ad Code

চেকপোস্টে পুলিশের রহস্যময় নীরবতা:
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, চোরাই পণ্যবোঝাই এসব ট্রাক পুলিশের চেকপোস্টের সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে যায়। রহস্যজনক কারণে দায়িত্বরতরা পালন করেন নীরব দর্শকের ভূমিকা। স্থানীয় সাংবাদিকরা বারবার গোয়াইনঘাট থানাকে বিষয়টি অবগত করলেও এসআই ফয়েজের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন? বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও কার খুঁটির জোরে এসআই ফয়েজ বহাল তবিয়তে এই বিটের দায়িত্বে আছেন?

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে এসআই ফয়েজ এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য মিলেনি, তবে গণমাধ্যমের নিকট গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে পুলিশ ও বিজিবি কঠোর নজরদারি করছে। কোনো পুলিশ সদস্য বা অন্য কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Manual8 Ad Code

তবে সচেতন মহলের দাবি, ‘রক্ষক যখন ভক্ষক হয়’, তখন রাষ্ট্রের সম্পদ ও অর্থনীতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অবিলম্বে এই সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার এসআই ফয়েজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
error: Content is protected !!