বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট মহানগরীর কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সুদীর্ঘকাল যাবত অবৈধ মাদকদ্রব্য বিপণন ও সেবনের অভয়ারণ্য হিসেবে পর্যালোচিত হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, অত্র এলাকাটিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও, এর প্রকৃত চিত্র ও কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে নানাবিধ অমিমাংসিত জিজ্ঞাসা ও পুঞ্জীভূত অসন্তোষ বিরাজমান।
স্থানীয় পান্থজন, অধিবাসী ও বণিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, কাষ্টঘর কলোনির সন্নিকটস্থ সড়কসমূহে প্রায়শই পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি বা চিরুনি অভিযান পরিলক্ষিত হয়। তথাপি, একটি গুরুতর আক্ষেপের বিষয় হলো এই অনুসন্ধানের সিংহভাগ শিকারে পরিণত হচ্ছেন নিতান্তই সাধারণ কর্মজীবী ও নিরীহ পথচারী। জনমনে একটি প্রাসঙ্গিক জিজ্ঞাসার উদ্রেক হয়েছে, নিছক ওই পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করাই কি সন্দিগ্ধ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট? স্থানীয়দের সুদৃঢ় অভিমত, যদি কাষ্টঘর কলোনিটি বাস্তবিক অর্থেই মাদক কারবার ও সেবনের একটি শীর্ষস্থানীয় ভরকেন্দ্র হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্যভেদী আক্রমণ হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল প্রকৃত অপরাধী চক্র ও নেপথ্যের কুশীলবদের বিরুদ্ধে। দৃশ্যত কলোনির অভ্যন্তরে কোনো সুবিশাল ও কার্যকর অভিযানের দৃষ্টান্ত বিরল হলেও, বহির্ভাগের সড়কে চলাচলকারী আমজনতাকে প্রতিনিয়ত হেনস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
কতিপয় স্থানীয় বাসিন্দাদের গুরুতর অভিযোগ, কালানুক্রমে এই পুঞ্জীভূত সমস্যার কোনো চিরস্থায়ী নিরসন না হওয়ার পশ্চাতে প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ বা কলুষিত সদস্যের অশুভ আঁতাত বা যোগসাজশ বিদ্যমান থাকতে পারে। যদিও, এই চাঞ্চল্যকর দাবির সপক্ষে অভিযোগকারীরা কোনো বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন বা পরীক্ষণযোগ্য প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, এসব অভিযোগের শতভাগ সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতভাবে নিরূপণ করা এই মুহূর্তে দুরূহ।
এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রত্যাশা, মাদকদ্রব্য উন্মূলনে পরিচালিত অভিযানসমূহ যেন হয় সুনির্দিষ্ট তথ্যনির্ভর ও অভীষ্টলক্ষণভিত্তিক। তারা কোনোভাবেই মাদকবিরোধী অভিযানের বিপক্ষে নন, বরং তাদের মূল দাবি এই নিদানের আড়ালে কোনো নির্দোষ নাগরিক যেন অহেতুক বিড়ম্বনা বা হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তপূর্বক দ্রুততম সময়ে আইনের কঠোরতম আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুবানীঘাট ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহিত একাধিকবার যোগাযোগের প্রয়াস চালানো হলেও, অত্র প্রতিবেদন প্রণয়ন অবধি তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিলিপি বা ভাষ্য হস্তগত হয়নি।
সচেতন নাগরিক সমাজের পরিশেষ প্রত্যাশা, মাদক নির্মূলে একটি শতভাগ স্বচ্ছ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও নাগরিক সম্মাননা সুনিশ্চিত করা হবে। অধিকন্তু, কাষ্টঘর কলোনিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত দীর্ঘদিনের যাবতীয় অভিযোগ ও গুঞ্জনের একটি নৈর্ব্যক্তিক ও পক্ষপাতহীন অনুসন্ধান অতীব জরুরি।
Leave a Reply