নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর: সীমান্ত চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে আজ এক বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬ইং) কাকডাকা ভোরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে পরিচালিত এক আকস্মিক চেকপোস্টে একটি সন্দেহভাজন কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সংঘবদ্ধ চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল জানতে পারে যে, সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ ভারতীয় পণ্যের একটি বড় চালান সিলেটের দিকে পাচার করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ঠিক ০৭:০৫ মিনিটে ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত পাখিটেকি সাকিনস্থ জমশিদ চৌধুরীর খামারবাড়ির সামনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উপর একটি অস্থায়ী ও শক্তিশালী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের উপর নজরদারির এক পর্যায়ে একটি কাভার্ডভ্যানকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটিকে সিগন্যাল দিয়ে থামায়। এরপর কাভার্ডভ্যানটিতে নিবিড় তল্লাশি চালালে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বলের সন্ধান পাওয়া যায়।
কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে আনা ৭৭২ পিস বিভিন্ন সাইজের ও রঙের ভারতীয় কম্বল জব্দ করে পুলিশ। চালক বা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা এসব পণ্যের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা আমদানি দলিল উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পুলিশের প্রাথমিক ও আানুষ্ঠানিক মূল্যায়নে জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ কম্বলের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লক্ষ ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
চোরাচালানের এই বড় চালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তারা আন্তঃজেলা চোরাকারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাসুক মিয়া (৪৩), পিতা- মৃত মাহমুদুর রহমান, গ্রাম- ফতেপুর খালপাড়, থানা- জালালাবাদ, এসএমপি, সিলেট ও মো. আলমগীর হোসেন (৪৮), পিতা- মৃত বেলায়েত হোসেন, গ্রাম- চাচরা, থানা- ভোলা সদর, জেলা- ভোলা।
উদ্ধারকৃত চোরাই কম্বল ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি এবং চক্রের পলাতক অজ্ঞাতনামা অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে (Special Powers Act) থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার্থে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সব ধরনের চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে তাদের এই “জিরো টলারেন্স” নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অচিরেই এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply